কৃষি খবর ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রপ্তানি কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কানাডার দুগ্ধ খামারিরা। দুধের চাহিদা কমে গেলে উৎপাদিত দুধ ফেলে দেওয়া কিংবা গরুর সংখ্যা কমানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার অ্যাবটসফোর্ডের খামারি ক্যাসি প্রুইমের খামার থেকে প্রতি দুই দিন অন্তর প্রায় ২৮ হাজার লিটার কাঁচা দুধ সরবরাহ করা হয়। এর বেশির ভাগ কানাডায় ব্যবহৃত হলেও একাংশ প্রক্রিয়াজাত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হতো। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপ করা ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হওয়ার পর দেশটিতে কানাডার দুগ্ধজাত পণ্যের বিক্রি অনেকটাই থমকে গেছে।
প্রুইমের খামারে রয়েছে ৩৩০টি গরু, যেগুলো প্রতিদিন তিনবার দোহন করা হয়। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য বিক্রি কমে গেলে প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো দুধ কেনা কমাতে পারে। এতে খামারিদের উৎপাদিত দুধ ফেলে দিতে হতে পারে। তাঁর ভাষায়, ‘গরু পানির কলের মতো নয় যে ইচ্ছা করলেই চালু বা বন্ধ করা যাবে।’
বিসি ডেইরির জনসংযোগবিষয়ক পরিচালক ডিলান ক্রুগার বলেন, শুল্কের প্রভাব এবং বিকল্প বাজারে দুধ বিক্রির সম্ভাবনা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। কানাডার ডেইরি ফার্মার্সের প্রেসিডেন্ট ডেভিড উইন্সের মতে, এই শুল্ক দুই দেশের সরবরাহব্যবস্থাকেই ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
বাড়ছে ঘাটতি
যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার বাণিজ্য চুক্তি—সিএইউএসএমএ (CUSMA)-এর আওতায় দুই দেশের দুগ্ধবাণিজ্য পরিচালিত হয়। কানাডায় উৎপাদন কোটা ও আমদানি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে দুগ্ধ খাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এই ব্যবস্থা তাদের দুগ্ধপণ্য রপ্তানিতে বাধা সৃষ্টি করছে।
ডেইরি প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশন অব কানাডার তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে কানাডার দুগ্ধপণ্য রপ্তানির পরিমাণ ছিল ২৪১ দশমিক ৩ মিলিয়ন কানাডীয় ডলার। ২০২৫ সালে তা বেড়ে ৩০৮ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়। বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কানাডায় আমদানি ৬৪৭ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ১ দশমিক ৩৫৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়।
পাল্টা শুল্কে বাড়তে পারে ব্যয়
যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের জবাবে কানাডাও মার্কিন পণ্যে পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছে। এর মধ্যে দুধ, ক্রিম ও হুই পণ্যে ৫০ শতাংশ এবং অনেক ধরনের পনিরে ২৫ শতাংশ শুল্ক রয়েছে।
অর্থনৈতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের মতে, পাল্টা শুল্ক উৎপাদক ও ভোক্তাদের ব্যয় বাড়িয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে দুর্বল করতে পারে।
সেন্ট্রাল ওয়ান ক্রেডিট ইউনিয়নের প্রধান অর্থনীতিবিদ ব্রায়ান ইউ বলেন, বড় একটি বাজার হারানোর ক্ষতি দ্রুত পুষিয়ে নেওয়া কঠিন। নতুন ক্রেতা ও বিকল্প বাজার খুঁজতে সময় লাগবে। এ সময় পণ্যের দাম বাড়া এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
দুগ্ধ খাতের সংকট আরও জটিল, কারণ কাঁচা দুধ দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বিক্রি কমে গেলে রাতারাতি অন্য দেশে রপ্তানি বাড়ানো সম্ভব নয়। এতে বাণিজ্য অনিশ্চয়তার সবচেয়ে বড় চাপ পড়ছে কানাডার খামারিদের ওপর। সূত্র: আল জাজিরা






