চলতি বোরো মৌসুমে দেশে ২ কোটি ১০ লাখ টনের বেশি ধান উৎপাদন হয়েছে, যা এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ বলে জানিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই)। অনুকূল আবহাওয়া, উন্নত জাতের বীজ এবং সময়মতো সার সরবরাহের কারণে এই সাফল্য এসেছে বলে মনে করছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা।
ডিএই-র মহাপরিচালক বলেন, “এবার হাওরাঞ্চলে আগাম বন্যার আশঙ্কা থাকলেও কৃষকরা দ্রুত ধান কাটতে পারায় ক্ষতি হয়নি। ব্রি ধান-৮৯, ব্রি ধান-৯২ ও হাইব্রিড জাতের আবাদ বাড়ায় ফলন হেক্টরপ্রতি গড়ে ৪ দশমিক ৫ টন ছাড়িয়েছে।”
কিশোরগঞ্জের হাওরের কৃষক আবদুল মালেক জানান, তিনি এবার ১২ বিঘা জমিতে ব্রি ধান-৮৯ চাষ করেছেন। প্রতি বিঘায় ২৪ মণ ধান পেয়েছেন, যা গত বছরের চেয়ে ৪ মণ বেশি। “সরকারি দামে ধান বিক্রি করতে পারলে লাভ আরও বাড়বে,” বলেন তিনি।
খাদ্য মন্ত্রণালয় এবার প্রতি কেজি ধান ৩২ টাকা এবং চাল ৪৫ টাকা দরে সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কিনতে ‘কৃষকের অ্যাপ’-এর মাধ্যমে নিবন্ধন চলছে।
তবে কৃষি অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, উৎপাদন বাড়লেও সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণে দুর্বলতা থাকলে কৃষক ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। তাই সরকারি গুদামের ধারণক্ষমতা বাড়ানো এবং মধ্যস্বত্বভোগী কমানোর পরামর্শ দিয়েছেন তারা।






