কৃষি খবর ডেস্ক: ইসরায়েলি ড্রোন, যুদ্ধবিমানের হামলা ও অবিস্ফোরিত ক্লাস্টার বোমার ঝুঁকির মধ্যে দক্ষিণ লেবাননে জলপাই সংগ্রহ করছেন কৃষকেরা। যুদ্ধ ও জমিতে প্রবেশের বিধিনিষেধের কারণে এবার জলপাইয়ের মৌসুম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

দক্ষিণ লেবাননের মাজদেল সেলম গ্রামের কৃষক খালেদ ফারহাতের প্রায় ২০০টি জলপাইগাছ রয়েছে। কিন্তু এবার নিজের বাগানে কাজ করার জন্য তিনি মাত্র দুই সপ্তাহের অনুমতি পেয়েছেন। যুদ্ধের কারণে সময়মতো জমি পরিষ্কার করতে না পারায় আগাছা বেড়েছে, যা ফসল সংগ্রহে বাধা সৃষ্টি করছে। এসব আগাছার মধ্যে অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ লুকিয়ে থাকার আশঙ্কাও রয়েছে।

ফারহাত জানান, জলপাইবাগানের ওপর দিয়ে নিয়মিত ড্রোন উড়ছে এবং আশপাশে গোলাবর্ষণ হচ্ছে। এতে কৃষকেরা প্রতিনিয়ত আতঙ্কের মধ্যে কাজ করছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, অক্টোবরের শুরুতে দক্ষিণ লেবাননে জলপাই সংগ্রহের সময় অবিস্ফোরিত গোলাবারুদের বিস্ফোরণ ও গোলাবর্ষণে কয়েকজন নিহত হন।

মাইন অ্যাডভাইজরি গ্রুপের (এমএজি) লেবানন কর্মসূচির ব্যবস্থাপক হিবা গান্দুর জানান, নতুন করে সংঘাত শুরুর পর কৃষিজমিতে বিস্ফোরকজনিত ঝুঁকি আরও বেড়েছে। তাঁর সংস্থার শনাক্ত করা বিপজ্জনক এলাকার পরিমাণ ৪ লাখ ৪৪ হাজার বর্গমিটার, যা আরও বাড়তে পারে।

লেবাননের পরিবেশমন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি হামলায় দেশটির ১৬ হাজার হেক্টরের বেশি জমি পুড়ে গেছে। এদিকে, দক্ষিণ লেবাননের প্রায় ৬৩০ বর্গকিলোমিটার এলাকা এখনো ইসরায়েলের দখলে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অর্থনৈতিক সংকটের কারণে জীবিকার তাগিদে ঝুঁকি নিয়েই জমিতে ফিরছেন কৃষকেরা। তবে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, দক্ষিণ লেবাননের জলপাই ও অন্যান্য কৃষিপণ্য খাওয়ার জন্য বিপজ্জনক—এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

কৃষকদের আশঙ্কা, নিরাপত্তাহীনতা ও জমিতে প্রবেশের সীমাবদ্ধতা অব্যাহত থাকলে এবার বিপুল পরিমাণ জলপাই গাছেই থেকে যেতে পারে।

সূত্র: আল জাজিরা