কৃষি খবর ডেস্ক: উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ধান চাষ কমিয়ে সয়াবিনের দিকে ঝুঁকছেন যুক্তরাষ্ট্রের কৃষকেরা। এই সংকটকে নির্বাচনী ইস্যু করে রিপাবলিকান প্রার্থী টম কটনের বিরুদ্ধে লড়ছেন ডেমোক্র্যাট হলি শফনার। তবে কৃষকদের অর্থনৈতিক অসন্তোষ ভোটে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়।
যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে কৃষকদের অর্থনৈতিক সংকট রাজনৈতিক আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে। জ্বালানি ও সারের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন দেশটির কৃষকেরা। বিশেষ করে আরকানসাসে অনেক কৃষক ধানের আবাদ কমিয়ে তুলনামূলক কম খরচের সয়াবিন চাষে ঝুঁকছেন।
আরকানসাসের কৃষক পল ম্যাককিনির পরিবার চার প্রজন্ম ধরে ধান চাষ করে আসছে। কিন্তু বাড়তি উৎপাদন খরচের কারণে এবার তাঁদের ধানের আবাদ কমানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
ইউনিভার্সিটি অব আরকানসাসের কৃষি অর্থনীতিবিদ রায়ান লয়ের হিসাব অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধের কারণে সার ও জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ইউরিয়া সারের দাম বাজেটের তুলনায় সর্বোচ্চ ৩৯ শতাংশ এবং ডিজেলের খরচ ৭২ শতাংশ বেড়েছে। এতে শুধু আরকানসাসের কৃষকদের অতিরিক্ত ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার।
গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কৃষকদের জন্য ৮০০ কোটি ডলারের জ্বালানি সহায়তা ঘোষণা করেছেন। তবে কৃষকদের মতে, সাময়িক সহায়তার পাশাপাশি প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি সমাধান।
কৃষি খাতে সংকটের প্রভাব পড়েছে খামারের অস্তিত্বেও। ইউনিভার্সিটি অব আরকানসাসের ন্যাশনাল অ্যাগ্রিকালচারাল ল সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম তিন প্রান্তিকে কৃষি খাতে দেউলিয়া হওয়ার ঘটনা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৯ শতাংশ বেড়েছে।
এই সংকটের মুখোমুখি হয়েছেন ডেমোক্র্যাট সিনেট প্রার্থী হলি শফনারও। ষষ্ঠ প্রজন্মের কৃষক পরিবারের সন্তান শফনার গত বছর উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি ও ফসলের দাম কমে যাওয়ায় তাঁদের ২ হাজার একরের পারিবারিক খামার বন্ধ করতে বাধ্য হন।
সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার রিপাবলিকান সিনেটর টম কটনের বিরুদ্ধে নির্বাচনে লড়ছেন তিনি। নির্বাচিত হলে ইরান যুদ্ধের অবসান, কৃষকদের জন্য স্থিতিশীল বাণিজ্যনীতি, স্থানীয় কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে বিনিয়োগ এবং শক্তিশালী কৃষি বিল পাসের উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন শফনার।
তবে কৃষকদের অর্থনৈতিক দুর্দশা তাঁদের ভোটের সিদ্ধান্ত বদলাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে বিশ্লেষকদের। ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক মাইকেল শেফার্ডের মতে, গ্রামীণ এলাকার অনেক কৃষক দীর্ঘদিন ধরেই রিপাবলিকান দলের সমর্থক। অর্থনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন হলেও তাঁদের রাজনৈতিক অবস্থান সহজে বদলায় না।
তবে সাম্প্রতিক জরিপে কৃষকদের মধ্যে অসন্তোষের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ফার্ম জার্নালের এপ্রিলের জরিপে দেখা যায়, সাধারণত রিপাবলিকানকে ভোট দেওয়া ৩৫ শতাংশ কৃষক তখনো ভোটের সিদ্ধান্ত নিয়ে ভাবছিলেন। অন্যদিকে, পারডু বিশ্ববিদ্যালয়ের সেপ্টেম্বরের জরিপে সংখ্যাগরিষ্ঠ কৃষক মনে করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ভুল পথে এগোচ্ছে।
অর্থনৈতিক অসন্তোষ থাকলেও নির্বাচনী প্রচারে বড় বাধা অর্থের সংকট। শফনারের তুলনায় অনেক বেশি অর্থ নিয়ে প্রচার চালাচ্ছেন টম কটন। ফলে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সমতা আনা কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, শফনার নির্বাচনে জয়ী না হলেও তাঁর প্রচারণা ভবিষ্যতে গ্রামীণ এলাকায় ডেমোক্র্যাটদের জন্য নতুন রাজনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। শেষ পর্যন্ত কৃষকদের অর্থনৈতিক ক্ষোভ ভোটের বাক্সে কতটা প্রতিফলিত হয়, সেটিই এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।
সূত্র: আলজাজিরা





