কৃষি খবর ডেস্ক: কৃষকদের সুবিধা ও কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে কীটনাশক ব্যবহারের নিয়ম শিথিল করার প্রস্তাব দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। তবে এতে মানবস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিজ্ঞানী ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, কীটনাশকের সক্রিয় উপাদানের অনুমোদন অনির্দিষ্টকালের জন্য বহাল রাখার সুযোগ তৈরি হবে। বর্তমানে এসব উপাদান সর্বোচ্চ ১৫ বছরের জন্য অনুমোদন পায়। মেয়াদ শেষে সেগুলোর নিরাপত্তা পুনর্মূল্যায়ন করতে হয়।
ইউরোপীয় কমিশনের দাবি, দীর্ঘ অনুমোদনপ্রক্রিয়া ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে কৃষকেরা নতুন ও পরিবেশবান্ধব কীটনাশক ব্যবহারের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই নিয়ম সহজ করে কৃষি খাতে নতুন উদ্ভাবনের পথ খুলতে চায় সংস্থাটি।
তবে প্রস্তাবিত পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের আশঙ্কা, নিয়মিত নিরাপত্তা পর্যালোচনা কমে গেলে কীটনাশকের ক্ষতিকর প্রভাব শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে।
গত সেপ্টেম্বরে ইউরোপের ৫০০-এর বেশি বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞ নতুন বিধিমালার প্রস্তাব স্থগিত করে স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে স্বাধীন তদন্তের দাবি জানান। ৭ অক্টোবর জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরাও বিষয়টি পর্যালোচনার আহ্বান জানান।
২০১১ সালের পর নিষিদ্ধ হয়েছে ৫৬টি রাসায়নিক উপাদান
ব্রাসেলসভিত্তিক পরিবেশবাদী সংগঠন পেস্টিসাইড অ্যাকশন নেটওয়ার্ক ইউরোপের নীতিবিষয়ক কর্মকর্তা সালোমে রয়নেল বলেন, কোনো কীটনাশকের ক্ষতিকর প্রভাব অনেক সময় ব্যবহারের শুরুতে পুরোপুরি বোঝা যায় না। পরবর্তী সময়ে নতুন গবেষণা ও বৈজ্ঞানিক তথ্য সামনে আসার পরই এর ঝুঁকি স্পষ্ট হয়।
তিনি জানান, ২০১১ সাল থেকে নিয়মিত পর্যালোচনার মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়নে ৫৬টি সক্রিয় রাসায়নিক উপাদান নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে ক্লোরপাইরিফস নামের একটি কীটনাশক, যা আগে ফলের বাগান, শাকসবজি ও শস্যক্ষেতে ব্যবহার করা হতো। শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশে ক্ষতিকর প্রভাবের সঙ্গে এই রাসায়নিকের সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
রয়নেলের অভিযোগ, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রস্তাবিত পরিবর্তনের সঙ্গে কীটনাশক উৎপাদনকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর দাবির যথেষ্ট মিল রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কীটনাশক পানি ও মাটি দূষিত করার পাশাপাশি জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করে। এসব রাসায়নিকের সংস্পর্শের সঙ্গে ক্যানসার, স্নায়বিক সমস্যা, প্রজনন জটিলতা এবং শিশুদের বিকাশগত সমস্যার সম্পর্কও বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে।
নেদারল্যান্ডসের লেইডেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ মার্টিনা ভিজভার বলেন, নিয়মিত নিরাপত্তা পর্যালোচনা অত্যন্ত জরুরি। নতুন বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে পুরোনো সিদ্ধান্ত সংশোধনের সুযোগ থাকতে হবে।
পেস্টিসাইড অ্যাকশন নেটওয়ার্ক ইউরোপের কর্মকর্তা সালোমে রয়নেল জানান, ২০১১ সাল থেকে নিয়মিত পর্যালোচনার মাধ্যমে ইইউতে ৫৬টি সক্রিয় রাসায়নিক উপাদান নিষিদ্ধ হয়েছে। এর মধ্যে শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য ক্ষতিকর হিসেবে চিহ্নিত ক্লোরপাইরিফসও রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের একাংশ পরিবেশবান্ধব বায়োকন্ট্রোল পণ্যের অনুমোদন দ্রুত করার পক্ষে। তবে তাঁদের মতে, শুধু অনুমোদন সহজ করলেই হবে না; কৃষকদের প্রশিক্ষণ, আর্থিক সহায়তা ও প্রণোদনা দিতে হবে। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিক কীটনাশকের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে হবে।
ইউরোপীয় পার্লামেন্টে প্রস্তাবটি নিয়ে আলোচনা চলছে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ এ বিষয়ে ভোটাভুটির লক্ষ্য রয়েছে।





