কৃষি খবর ডেস্ক: আগাছানাশক প্রতিরোধী আগাছা নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে নতুন দুটি আগাছানাশক আনছে জার্মান কৃষি রাসায়নিক প্রতিষ্ঠান বিএএসএফ। ‘ভোরাক্সর’ ও ‘জিডুয়া প্লাস’ নামের এই দুটি পণ্য ২০২৭ সালের রোপণ মৌসুম সামনে রেখে বাজারজাত করার পরিকল্পনা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। সয়াবিন, ভুট্টাসহ সারি ফসলের চাষে ক্ষতিকর আগাছা নিয়ন্ত্রণে কৃষকদের বাড়তি সুবিধা দেবে পণ্য দুটি।
যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যের রিসার্চ ট্রায়াঙ্গল পার্ক থেকে নতুন পণ্য দুটির ঘোষণা দিয়েছে বিএএসএফ।
ভোরাক্সর তৈরি হয়েছে ট্রাইফ্লুডিমোক্সাজিন ও সাফ্লুফেনাসিল নামের দুটি সক্রিয় উপাদানের সমন্বয়ে। বীজ বপনের আগে জমিতে থাকা আগাছা দ্রুত দমনে এটি ব্যবহার করা যাবে।
বিএএসএফের দাবি, প্রচলিত কিছু আগাছানাশকের ক্ষেত্রে যেখানে ফল পেতে কয়েক সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হয়, সেখানে ভোরাক্সর প্রয়োগের কয়েক দিনের মধ্যেই দৃশ্যমান ফল পাওয়া যাবে।
পণ্যটি মূলত মারেস্টেইল, হেনবিট, কোচিয়া ও পিগউইডসহ বিভিন্ন আগাছা দমনে কাজ করবে। পাশাপাশি পিপিও-প্রতিরোধী আগাছার বিরুদ্ধেও কার্যকর বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে রয়েছে পামার অ্যামারান্থ ও ওয়াটারহেম্প। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য-পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলে এসব আগাছা নিয়ন্ত্রণ ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।
অন্যদিকে, জিডুয়া প্লাস তৈরি করা হয়েছে সয়াবিনের জমিতে দীর্ঘস্থায়ী আগাছা নিয়ন্ত্রণের জন্য। ফসলের বীজ গজানোর আগে কিংবা চারা ওঠার পর—দুই পর্যায়েই এটি প্রয়োগ করা যাবে। ফলে বপনের সময়সূচি ও আবহাওয়ার পরিস্থিতি অনুযায়ী কৃষকেরা প্রয়োগের সময় নির্ধারণ করতে পারবেন।
বিএএসএফ জানিয়েছে, পণ্যটি ছোট ও বড় বীজের বিভিন্ন ধরনের আগাছা এবং ঘাসজাতীয় আগাছা দমনে কাজ করবে। এর লক্ষ্যবস্তু আগাছার মধ্যে রয়েছে ওয়াটারহেম্প, পামার অ্যামারান্থ, রেডরুট পিগউইড, ফক্সটেইলস ও বার্নইয়ার্ড ঘাস।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, প্রয়োগের ৬০ দিন পরও এসব সমস্যাজনক আগাছার ৯৫ শতাংশের বেশি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে জিডুয়া প্লাস। ফলে ফসলের মৌসুমে বারবার আগাছানাশক প্রয়োগের প্রয়োজন কমতে পারে।
জিডুয়া প্লাসে রয়েছে পাইরক্সাসালফোন (গ্রুপ ১৫) ও ইমাজেথাপির (গ্রুপ ২) উপাদানের সমন্বয়।
বিএএসএফের কৃষি সমাধান বিভাগের কারিগরি বিপণন ব্যবস্থাপক জশ পুটম্যান বলেন, ভোরাক্সর দ্রুত ও ধারাবাহিকভাবে আগাছা দমনের মাধ্যমে কৃষকদের আগেই কঠিন আগাছা নিয়ন্ত্রণের সুযোগ দেবে।
একই বিভাগের আরেক কারিগরি বিপণন ব্যবস্থাপক ম্যাট ইনম্যান বলেন, সয়াবিনের চারা ওঠার আগে কিংবা পরে জিডুয়া প্লাস প্রয়োগের সুযোগ কৃষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা। বিশেষ করে বসন্তকালে যখন জমিতে ওষুধ প্রয়োগের সময় সীমিত থাকে, তখন এই নমনীয়তা কাজে আসবে।
তবে পণ্য দুটির বাণিজ্যিকভাবে বাজারে আসার নির্দিষ্ট তারিখ কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে নিবন্ধনের অবস্থা এখনো জানায়নি বিএএসএফ। প্রতিষ্ঠানটি আপাতত ২০২৭ সালের কৃষি মৌসুমকে সামনে রেখেই পণ্য দুটি বাজারে আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে।
নতুন পণ্য দুটি বাজারে আনার উদ্যোগ এমন সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিতে আগাছানাশকের বিরুদ্ধে আগাছার প্রতিরোধক্ষমতা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। বিএএসএফসহ বড় কৃষি রাসায়নিক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো আগামী রোপণ মৌসুমে আগাছার প্রতিরোধক্ষমতা মোকাবিলাকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
২০২৬ সালের কৃষি মৌসুমে যুক্তরাষ্ট্রের সারি ফসল উৎপাদনকারীরা বসন্তকালে জমিতে আগাছানাশক প্রয়োগের সীমিত সময়সীমাকে বড় সমস্যা হিসেবে দেখেছেন। এ পরিস্থিতিতে নতুন দুটি পণ্য কৃষকদের আগাছা নিয়ন্ত্রণের কৌশলে বাড়তি বিকল্প দিতে পারে।
বিএএসএফের আগের সয়াবিন ও ভুট্টা চাষের উপযোগী আগাছানাশকের পাশাপাশি ভোরাক্সর জমিতে বীজ বপনের আগের আগাছা পরিষ্কারে এবং জিডুয়া প্লাস ফসলের মৌসুমজুড়ে আগাছা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখবে। তবে মাঠপর্যায়ে কার্যকারিতা ও ব্যবহারিক সুবিধা নির্ভর করবে পণ্যগুলোর নিবন্ধন, প্রয়োগবিধি এবং কৃষি পরিস্থিতির ওপর।





