কৃষি খবর ডেস্ক: বিগত মৌসুমের সব সংকট আর হতাশা ঝেড়ে ফেলে নতুন স্বপ্ন নিয়ে কাদাজলে নেমেছে কৃষক। এরই মধ্যে তাহিরপুর উপজেলার বিভিন্ন হাওরে বোরো ধানের বীজ বপন শুরু হয়েছে। তবে এ বছর পানি আগাম কমে যাওয়ার কারণে কৃষকরা চিন্তিত।

শনির হাওর, মাটিয়ান হাওর, মহালিয়া, হাওরসহ উপজেলার সবকটি হাওর এলাকার কৃষকরা জানিয়েছেন, বিগত বছরগুলোতে কার্তিক মাসের ২৫ তারিখ থেকে বীজধান বুননের কাজ শুরু হয়েছিল। এ বছর কার্তিকের শুরু থেকেই বীজধান বপনের কাজ শুরু হয়েছে। 

ভাটি তাহিরপুর গ্রামের রুহুল আমিন বলেন, বিগত বছর ব্র্যাক বীজ শক্তি-২ ও ৭৭৭ বীজ কিনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন। ধান বিক্রি করতে গেলে পাইকাররা বলে শক্তি-২ ও ৭৭৭ বীজের ধানের চাল অপুষ্ট থাকে। মেশিনে ধান ভাঙালে চাল গুঁড়ো হয়ে যায় সেজন্য ব্যাপারীরা শক্তি-২ ও ৭৭৭ বীজের ধান কিনতে চান না।

কিশোরগঞ্জ থেকে হাওরাঞ্চলে আসা ধানের ব্যাপারী (ক্রেতা) মোশাররফ হোসেন বলেন, অন্যান্য ধান থেকে শক্তি-২ ও ৭৭৭ বীজের ধান প্রতি মণে দেড় থেকে দুইশ টাকা কম দিয়ে কিনে থাকেন। কারণ হিসেবে জানতে চাইলে তিনি জানান, অন্যান্য ধানের চেয়ে প্রতি মণে চাল তুলনামূলক কম হয়। সে জন্যই শক্তি-২ ও ৭৭৭ বীজের ধান তারা কিনতে আগ্রহী নন। 

তাহিরপুর বাজারের বীজ ডিলার সামায়ুন কবির বলেন, এ বছর কৃষকরা সিনজেনটা কোম্পানির ১২০৩, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) ব্রি হাইব্রিড ধান-৮, ন্যাশনাল এগ্রিকেয়ার লিমিটেডের জনক রাজ, ব্র্যাকের শক্তি-৩, এসিআই সিড বন্ধু, ব্রি ৬৭ ও বিএডিসির ব্রি ধান ৯২-এর বীজ ধান বেশি কিনছেন। তবে বাজার পড়ে গেছে ব্র্যাক বীজ শক্তি-২ ও ৭৭৭ বীজ ধানের। বিক্রীত বীজের মধ্যে এবার সিনজেনটা কোম্পানির ১২০৩ বীজধানের চাহিদা কৃষকদের মাঝে বেশি। ব্র্যাক সিডের বিপণন কর্মকর্তা কবির আহমদ বলেন, এ বছর ব্র্যাক শক্তি সিডের চাহিদা কমে গেছে।