কৃষি খবর ডেস্ক: রূপকথার মতো ভেসে বেড়ানো শৈশবের স্মৃতি কিংবা দল বেঁধে উল্লাসের সেই দিনগুলো ফিরে পেতে কুড়িগ্রাম ফুলবাড়ী উপজেলার শিমুলবাড়ী ছড়ায় পলো নিয়ে নেমেছেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা অর্ধশতাধিক মানুষ। পলো দিয়ে মাছ ধরার এই কর্মযজ্ঞ ঘিরে পুরো এলাকায় তৈরি হয়েছে এক আনন্দঘন উৎসবমুখর পরিবেশ।
তবে ঐতিহ্যবাহী এই আয়োজনের আনন্দের মাঝেও শিকারিদের মনে বাজছে গভীর আশঙ্কার সুর– মাছ কোথায়! আগের মতো আর জালে ধরা দিচ্ছে না দেশি মাছ।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে শিমুলবাড়ী ছড়ায় গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন বয়সের মানুষ পলো, চাক জাল ও মাছ ধরার নানা উপকরণ নিয়ে হাঁটুপানিতে নেমে পড়েছেন। মাছ শিকারে আসা মানুষেরা আক্ষেপ করে জানান, এক সময় ফুলবাড়ীর ছড়া, খাল-বিল ও জলাশয়ে দেশি মাছের এমন প্রাচুর্য ছিল যে পলো ফেললেই বোয়াল, শোল, আইড়সহ হরেক রকমের মাছ মিলত। সময়ের পরিক্রমায় সেই চিত্র বদলে গেছে। কুটিচন্দ্রখানা এলাকা থেকে আসা হামিদুল ইসলাম ও রহমত আলী জানান, দেশি মাছের এই সংকটের প্রধান কারণ নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জালের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার। পানির প্রবাহপথে সূক্ষ্ম ফাঁসের এই জাল পেতে রাখায় বড় মাছের পাশাপাশি ছোট মাছ ও ডিমওয়ালা পোনাও নির্বিচারে ধরা পড়ছে।
রাবাইটারী এলাকা থেকে আসা ইকবাল হোসেন ও মোজাফফর হোসেন বলেন, ‘আগে দল বেঁধে দোলা ও ছড়ায় মাছ ধরার মধ্যে এক ধরনের প্রতিযোগিতা ও আনন্দ ছিল। এখন মাছ বড় হওয়ার আগেই চায়না জালে সব শেষ হয়ে যাচ্ছে।’ দেশি মাছের প্রাকৃতিক প্রজননক্ষেত্র রক্ষা এবং ক্ষতিকর জালের ব্যবহার বন্ধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারির দাবি জানান তারা।
প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান জানান, ফুলবাড়ীর বড় ছড়াগুলোর মধ্যে শিমুলবাড়ী অন্যতম। অতীতে এই ছড়াটি মাছের ভান্ডার হিসেবে পরিচিত হলেও এখন আর আগের মতো দেশি মাছ মেলে না।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা হাফিজুল ইসলাম জানান, দূর-দূরান্ত থেকে শিকারিরা একত্র হয়ে ছড়ায় নামেন। তবে জলাশয়ে আগের মতো পানি ও মাছের উপস্থিতি না থাকায় পলো দিয়ে আশানুরূপ মাছ পাওয়া যায় না। মৎস্যসম্পদ রক্ষায় অবৈধ জালের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।



