কৃষি খবর ডেস্ক: উৎপাদন খরচের চেয়ে কম দামে ডিম বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন দেশের প্রান্তিক পোল্ট্রি খামারিরা। প্রতিটি ডিম উৎপাদনে খরচ প্রায় সাড়ে ৯ টাকা হলেও খামারিরা বিক্রি করছেন সাড়ে ৬ টাকার মতো দামে। অর্থাৎ প্রতিটি ডিমে লোকসান হচ্ছে প্রায় ৩ টাকা। অথচ সেই ডিমই রাজধানীর খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১১ টাকা পর্যন্ত।

শুধু ডিম নয়, ব্রয়লার মুরগির দামও বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রয়লার বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২৩০ টাকায়। এক সপ্তাহ আগে দাম ছিল ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা, আর এক মাস আগে ছিল ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা।

পাঁচ বছরে বন্ধ ৬৪ হাজার খামার

ঋণের চাপ, বিদ্যুৎ বিল ও কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ করতে না পেরে অনেক প্রান্তিক খামারি ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছেন। কেউ কেউ পেশা পরিবর্তন করছেন, আবার কেউ ঋণের চাপে এলাকা ছেড়ে চলে যাচ্ছেন।

বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, দেশে পাঁচ বছর আগে পোল্ট্রি খামারের সংখ্যা ছিল প্রায় ২ লাখ। বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ৩৬ হাজারে। অর্থাৎ এই সময়ে প্রায় ৬৪ হাজার খামার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করেছে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তালিকা অনুযায়ী, দেশে নিবন্ধিত পোল্ট্রি খামার রয়েছে প্রায় ৮৬ হাজার। এর বাইরে প্রায় ৫০ হাজার অনিবন্ধিত খামার পরিচালিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

বিশ্ব উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান ৫৩তম

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, মুরগির মাংস উৎপাদনে বিশ্বের ১৮৭টি দেশ ও অঞ্চলের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৫৩তম। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে ফার্মের মুরগির মাংসের উৎপাদন ২ লাখ ৩২ হাজার ৫০৭ দশমিক ৬৭ মেট্রিক টন।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তির অভাব, পোল্ট্রি খাদ্যের উচ্চমূল্য এবং খামারিদের প্রশিক্ষণের ঘাটতি এ খাতের অগ্রগতিতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

খামারিদের দাবি কী?

পোল্ট্রি খাতের সংকট কাটাতে উৎপাদন খরচ বিবেচনায় ডিমের ন্যূনতম মূল্য নির্ধারণ, স্বল্প সুদে ঋণ, ভর্তুকি এবং কৃষক কার্ড চালুর দাবি জানিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

তাদের মতে, খামারিদের মোট উৎপাদন ব্যয়ের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশই চলে যায় খাদ্যের পেছনে। তাই খাদ্যের কাঁচামাল আমদানিতে ৪ শতাংশ অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহারের পাশাপাশি প্রকৃত খামারিদের শনাক্ত করতে জাতীয় ডিজিটাল ডাটাবেজ গঠন জরুরি।

এ ছাড়া বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমানো এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে জাতীয় পোল্ট্রি বোর্ড গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন তারা।

খাতসংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি খামারগুলো টিকিয়ে রাখা না গেলে ভবিষ্যতে ডিম ও মুরগির বাজারে বড় প্রতিষ্ঠানের একচেটিয়া আধিপত্য তৈরি হতে পারে। এতে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার পাশাপাশি বাড়তি দামের চাপে পড়বেন সাধারণ ভোক্তারাও।