কৃষি খবর ডেস্ক: যশোরের চৌগাছা উপজেলায় আর্সেনিকের গড় উপস্থিতি ২০ মিলিগ্রাম। এখানকার ধানে আর্সেনিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে সহনশীল মাত্রার চেয়ে বেশি মাত্রায়। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে কাজ করছে জাপানের জাইকা ও জেএসটি। সংস্থা দুটির কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় বেসরকারি সংস্থা এশিয়া আর্সেনিক নেটওয়ার্ক সেচ পদ্ধতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে আর্সেনিকমুক্ত ধান উৎপাদনে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
আন্তর্জাতিক সংস্থা সিএসি (কোডেক্স অ্যালিমেন্টারিয়াস কমিশন)-এর ঘোষণা অনুযায়ী, ধানের ক্ষেত্রে আর্সেনিকের সহনশীল মাত্রা ধরা হয় ০.৩৫ পিপিএম, যা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর নয়, কিন্তু চৌগাছা উপজেলায় আর্সেনিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে আরো বেশি। এখানকার ধানে আর্সেনিকের উপস্থিতি পাওয়া যাচ্ছে ৫৬ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত।
এশিয়া আর্সেনিক নেটওয়ার্ক সূত্রে জানা গেছে, ধান ও ভাতে আর্সেনিকের উপস্থিতি সহনশীল রাখতে সেচ নিয়ন্ত্রণের বিকল্প নেই। তারা থ্রিএফফোরডি (তিন দিন জমি ভেজানো, চার দিন জমি শুকানো) পদ্ধতি ব্যবহারে কৃষকদের সচেতন করছেন।
এ পদ্ধতি উদ্ভাবন করে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)।
নিরাপদ ও পুষ্টিকর ধান (সানরাইজ) প্রকল্পের অধীনে এই পদ্ধতি উদ্ভাবন করা হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে জাপানের জাইকা ও জেএসটি (জাপান সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি এজেন্সি)-এর কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতায় এ উপজেলায় আর্সেনিক সহনশীল মাত্রায় নিরাপদ ধান উৎপাদনে কাজ করছে সংস্থাটি।
সেখানে ১৪৪ জন কৃষক এ কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত।
এছাড়া প্রত্যেক ইউনিয়ন ও পৌরসভায় মোট ৬০ জন সেচপাম্প মালিকের অধীনে তাদের নিজ উদোগে আর্সেনিকমুক্ত ধান উৎপাদনে থ্রিএফফোরডি পদ্ধতি আগামী ইরি-বোরো মৌসুমে ব্যবহার করা হবে। এরইমধ্যে তাদের সচেতন করার লক্ষ্যে সভা, সেমিনার ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
সংস্থার উপজেলা সমন্বয়কারী আমিরুল ইসলামের ভাষ্য, ‘আমাদের নিরাপদ ও পুষ্টিকর চাল দিয়ে ভাত খেতে হবে। এ কারণে আর্সেনিকমুক্ত বা সহনশীল মাত্রার আর্সেনিকে ধান উৎপাদন করা জরুরি।’
আমিরুল বলেন, দুটি পদ্ধতির মাধ্যমে আমরা কাজ করছি। তবে মূল বিষয় হচ্ছে ধানের আবাদি জমিতে পানির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা। এটা করতে কৃষি পদ্ধতি ও ত্রিএফফোরডি চালু করা হয়েছে। এ পদ্ধতিতে ২০ শতাংশ পানি সাশ্রয় হচ্ছে। এতে ৮ শতাংশ বেশি ফলন পাওয়া সম্ভব বলে জানান তিনি।
উপজেলা জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী ফেরদৌসী খাতুন বলেন, ধান বা চালে আর্সেনিকের বিষয়ে সরকারি কোনো উদ্যোগ নেই। তবে পানিতে আর্সেনিক নিয়ন্ত্রণে সরকারি উদ্যোগ রয়েছে। আমরা বর্তমানে ১১টি ইউনিয়নে ৯০টি অগভীর নলকূপ দিয়েছি। নলকূপ থেকে পানি সংগ্রহ করে আঞ্চলিক পানি পরীক্ষাগারে পাঠাচ্ছি। যেখনে আর্সেনিকের মাত্রা বেশি পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে পানি পরিশোধনের ভ্যাসেল দিচ্ছি।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ইসলাম বলেন, ধানে আর্সেনিকের বিষয়ে একটি সংস্থা কাজ করছে বলে জেনেছি। এ বিষয়ে সরকারি পর্যায়ে এখনো কোনো উদ্যোগ শুরু হয়নি। পানিতে আর্সেনিক নিয়ন্ত্রণে অসভীর নলকূপ দেওয়া হচ্ছে। নলকূপে আর্সেনিক ধরা পড়লে পানি শোধনে সরকারিভাবে ভ্যাসেল দেওয়া হচ্ছে।
ইউএনও আরো বলেন, আর্সেনিক সমস্যা এ অঞ্চলে অনেক দিনের। আমরা যে টিউবওয়েলের পানি ব্যবহার করছি, তার অধিকাংশই এখন নিরাপদ নয়। পানি ব্যবহারে আমাদের সতর্ক থাকা দরকার।
সূত্র: কালের কন্ঠ





