জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক: অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার তৈরি, বাসি খাদ্যপণ্য বিক্রি ও অননুমোদিত রাসায়নিক রং ব্যবহারের মতো অপরাধে এক সপ্তাহে ১১টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)। একই সময়ে দায়ের করা হয়েছে ১১টি মামলা। ১১ থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত রাজধানী ঢাকা এবং দেশের বিভিন্ন জেলায় নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ বাস্তবায়নে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সাতটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয়। এর মধ্যে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার তৈরি, বাধ্যতামূলক নিবন্ধন ছাড়া প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, রেফ্রিজারেটরে লেবেলবিহীন মাছ-মাংস ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী সংরক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হওয়ার মতো অপরাধ পাওয়া যায়। এসব কারণে চারটি প্রতিষ্ঠানকে মোট চার লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ফেনী, পাবনা, বরিশাল, নরসিংদী, সুনামগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জে ছয়টি প্রতিষ্ঠানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। সেখানে লেবেলবিহীন পণ্য সংরক্ষণ, পণ্য কেনার চালান দেখাতে না পারা, অননুমোদিত রাসায়নিক রং ব্যবহার, উৎপাদনস্থলে তেলাপোকা ও ছারপোকার উপস্থিতি এবং নোংরা পরিবেশে খাদ্য উৎপাদনের মতো অনিয়ম শনাক্ত হয়। এসব ঘটনায় মোট সাড়ে আট লাখ টাকা জরিমানা আদায় এবং ছয়টি মামলা করা হয়েছে।
এ ছাড়া গত ১৬ অক্টোবর নাটোরের মৌচাক বেকারিতে লেবেলবিহীন ও বাসি খাদ্যপণ্য পাওয়ায় দুই লাখ টাকা জরিমানা করেন নাটোর বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইব্রাহিম আলী। জরিমানা অনাদায়ে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশও দেওয়া হয়।
আইন প্রয়োগের পাশাপাশি খাদ্যপণ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করেছে কর্তৃপক্ষ। গত এক সপ্তাহে বাজার, হোটেল-রেস্তোরাঁ, বেকারি, মিষ্টির দোকান এবং খাদ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানসহ মোট ২১৪টি খাদ্যস্থাপনা তদারকি করা হয়েছে।
এসব কার্যক্রমে খাদ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ, পরিবেশন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণনে নিরাপদ খাদ্যবিধি অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। অনিয়মের ধরন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। বাংলাদেশ টেলিভিশনে সচেতনতামূলক বিজ্ঞাপন ও স্ক্রলবার্তা প্রচারের পাশাপাশি বিভিন্ন অডিওবার্তা, ছবি, রিলস ও ভিডিওর মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য গ্রহণ এবং স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য উৎপাদন ও বিপণনের বিষয়ে মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি, আইনানুগ ব্যবস্থা, মোবাইল কোর্ট, খাদ্য নমুনা পরীক্ষা ও গবেষণার পাশাপাশি জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। উৎপাদন থেকে ভোক্তার কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।





