কৃষি খবর ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রাতারাতি লেনদেনে ভুট্টা ও সয়াবিনের দাম কমেছে। দেশটিতে ফসল সংগ্রহের কার্যক্রম এগিয়ে চলার মধ্যেই এ দরপতন দেখা গেছে। অন্যদিকে, সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রে ডিম উৎপাদন আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ শতাংশ বেড়েছে। তবে গম রপ্তানিতে পিছিয়ে রয়েছে দেশটি।

যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ) জানিয়েছে, গত রোববার পর্যন্ত দেশটির ৪৪ শতাংশ ভুট্টা সংগ্রহ করা হয়েছে। এক সপ্তাহ আগে এ হার ছিল ৩৩ শতাংশ। তবে গত পাঁচ বছরের একই সময়ের গড় ৫২ শতাংশের তুলনায় এবার সংগ্রহের গতি কম।

এ সময় ভুট্টার ৯৫ শতাংশ পরিপক্ব হয়েছে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৯১ শতাংশ। গত পাঁচ বছরের গড় পরিপক্বতার হার ৯৬ শতাংশ।

সয়াবিন সংগ্রহেও অগ্রগতি হয়েছে। সপ্তাহের শুরু পর্যন্ত ৬৪ শতাংশ সয়াবিন সংগ্রহ করা হয়েছে, যা এক সপ্তাহে ১৮ শতাংশীয় পয়েন্ট বেড়েছে। তবে গত পাঁচ বছরের গড় ৬৫ শতাংশের চেয়ে সামান্য পিছিয়ে রয়েছে। এদিকে সয়াবিনের ৯৬ শতাংশ গাছের পাতা ঝরার পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৯২ শতাংশ। এ ক্ষেত্রেও পাঁচ বছরের গড় ৯৭ শতাংশ।

ভুট্টা-সয়াবিন রপ্তানি বাড়লেও কমেছে গম

ইউএসডিএর তথ্য অনুযায়ী, ১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া নতুন বিপণন বছরে যুক্তরাষ্ট্রের ভুট্টা ও সয়াবিন রপ্তানি আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে।

সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে ভুট্টা রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ৮৭ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টনে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ শতাংশ বেশি। সয়াবিন রপ্তানি হয়েছে ৫০ লাখ ৯০ হাজার মেট্রিক টন, বেড়েছে ৪৬ শতাংশ।

অন্যদিকে, গম রপ্তানি কমেছে। বিপণন বছরের শুরু থেকে সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের গম রপ্তানি আগের বছরের তুলনায় ৩১ শতাংশ কমে ৭২ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টনে দাঁড়িয়েছে।

শিকাগো বোর্ড অব ট্রেডে ডিসেম্বর সরবরাহের ভুট্টার দাম প্রতি বুশেলে ২ দশমিক ২৫ সেন্ট কমে ৪ ডলার ৫৯ দশমিক ৭৫ সেন্ট হয়েছে। নভেম্বর সরবরাহের সয়াবিনের দাম কমেছে ৩ দশমিক ৫ সেন্ট। প্রতি বুশেলের দাম দাঁড়িয়েছে ১২ ডলার ৬০ সেন্টে।

এ ছাড়া সয়াবিনের খৈলের দাম প্রতি শর্ট টনে ১ ডলার ৪০ সেন্ট কমে ৩৪৭ ডলার ৩০ সেন্ট হয়েছে। সয়াবিন তেলের দাম প্রতি পাউন্ডে শূন্য দশমিক শূন্য ৩ সেন্ট কমে ৬৬ দশমিক ৭ সেন্টে নেমেছে।

ডিসেম্বর সরবরাহের গমের দাম প্রতি বুশেলে ৬ দশমিক ২৫ সেন্ট কমে ৬ ডলার ৩৭ সেন্ট হয়েছে। কানসাস সিটির বাজারে একই মেয়াদের গমের দামও ৬ দশমিক ২৫ সেন্ট কমে ৬ ডলার ৮৪ দশমিক ৭৫ সেন্টে দাঁড়িয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে ডিম উৎপাদন বেড়েছে ৬ শতাংশ

যুক্তরাষ্ট্রে সেপ্টেম্বর মাসে মোট ৯২০ কোটি ডিম উৎপাদিত হয়েছে, যা আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ৬ শতাংশ বেশি বলে জানিয়েছে ইউএসডিএ।

মোট উৎপাদিত ডিমের মধ্যে ৭৯৩ কোটি ছিল সরাসরি খাদ্য হিসেবে ব্যবহারের উপযোগী ডিম এবং ১২৭ কোটি ছিল বাচ্চা ফোটানোর জন্য উৎপাদিত ডিম। দ্বিতীয় শ্রেণির ডিমের মধ্যে প্রায় ১১৭ কোটি ছিল ব্রয়লার মুরগির বাচ্চা উৎপাদনের জন্য এবং ১০ কোটি ৪০ লাখ ছিল ডিম উৎপাদনকারী মুরগির বাচ্চা ফোটানোর জন্য।

সেপ্টেম্বর মাসে ডিম পাড়া মুরগির গড় সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ৫ শতাংশ বেড়ে ৩৮ কোটি ৫০ লাখে দাঁড়িয়েছে।

১ অক্টোবরের হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে মোট ৩১ কোটি ৯০ লাখ মুরগি খাদ্যোপযোগী ডিম উৎপাদন করছিল। এ ছাড়া ৬ কোটি ১০ লাখ মুরগি ব্রয়লার উৎপাদনের জন্য এবং প্রায় ৪৪ লাখ ৯০ হাজার মুরগি ডিম উৎপাদনকারী জাতের বাচ্চা ফোটানোর জন্য ডিম দিচ্ছিল।

সেপ্টেম্বরে ডিম উৎপাদনকারী জাতের প্রায় ৫ কোটি ১৩ লাখ বাচ্চা ফুটেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ শতাংশ কম। ১ অক্টোবর ইনকিউবেটরে থাকা ডিমের সংখ্যা ছিল ৫ কোটি ৬৯ লাখ, যা এক বছরের ব্যবধানে ২ শতাংশ কমেছে।

অন্যদিকে, সেপ্টেম্বরে ব্রয়লার মুরগির প্রায় ৮৪ কোটি ৯০ লাখ বাচ্চা ফুটেছে, যা আগের বছরের তুলনায় সামান্য বেশি। অক্টোবরের শুরুতে ইনকিউবেটরে থাকা ব্রয়লার মুরগির ডিমের সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ২ শতাংশ বেড়ে ৭৪ কোটি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের দুই অঙ্গরাজ্যে দাবানলের আশঙ্কা

শুষ্ক আবহাওয়া, উষ্ণ তাপমাত্রা ও বাতাসের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলীয় সাউথ ডাকোটা এবং উত্তরাঞ্চলীয় নেব্রাস্কার কিছু এলাকায় দাবানলের ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে দেশটির জাতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তর।

বৃহস্পতিবার থেকে এসব এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি বাড়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার বাতাসের গতি আরও বাড়লে বিস্তীর্ণ এলাকায় দাবানলের ঝুঁকি গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।

জাতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বিশেষ করে ফসল কাটার সময় যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সৃষ্ট স্ফুলিঙ্গ থেকে আগুন লাগার ঝুঁকি রয়েছে। শুক্রবার আগুন লাগলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।

এ ছাড়া ওকলাহোমার পূর্বাঞ্চল ও আরকানসাসের পশ্চিমাঞ্চলের কিছু এলাকায়ও আগামী দিন থেকে দাবানলের সীমিত ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা ও ঝোড়ো বাতাস এসব এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়াতে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।