কৃষি খবর ডেস্ক: বিশ্বের খাদ্যব্যবস্থায় একের পর এক সংকটের প্রভাব পুরুষের তুলনায় নারীদের আরও বেশি পিছিয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের দেশগুলোর নারীরা এ ঝুঁকিতে রয়েছেন। সরকার, দাতা সংস্থা ও উন্নয়ন সহযোগীরা অন্তর্ভুক্তিমূলক উদ্যোগ না নিলে খাদ্য, ভূমি ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় লিঙ্গবৈষম্য আরও বাড়তে পারে বলে নতুন এক প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে।

‘অ্যাডভান্সিং ইকুয়ালিটি, ট্রান্সফর্মিং ফিউচারস: এ পাথ টু রেজিলিয়েন্ট অ্যান্ড প্রোডাক্টিভ ফুড, ল্যান্ড অ্যান্ড ওয়াটার সিস্টেমস ইন ২০৫০’ শীর্ষক প্রতিবেদনটিতে ২০৫০ সালের মধ্যে খাদ্যব্যবস্থার রূপান্তরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নারী-পুরুষের বৈষম্য কমাতে সরকার, অর্থায়নকারী সংস্থা, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা, গবেষক ও বেসরকারি খাতের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

জ্বালানি ও সারের সংকট, চরম আবহাওয়া এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিঘ্নসহ একাধিক সংকটের সম্মিলিত চাপে গত এক বছরে খাদ্যব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর প্রভাব নারীদের ওপর তুলনামূলকভাবে বেশি পড়েছে। অথচ উদীয়মান হুমকি মোকাবিলা এবং স্থিতিস্থাপক খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে নারীরাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

সিজিআইএআর জেন্ডার অ্যাকসেলারেটর প্রকাশিত প্রতিবেদনে লিঙ্গবৈষম্য কমানোর জন্য বেশ কিছু লক্ষ্যভিত্তিক পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক, আইনি ও সামাজিক সংস্কার, অন্তর্ভুক্তিমূলক অবকাঠামো গড়ে তোলা, সামাজিক সুরক্ষা জোরদার, উন্নত তথ্য সংগ্রহ এবং নতুন প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহার।

নীতিনির্ধারক, অর্থায়নকারী সংস্থা, বেসরকারি খাত ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পক্ষের জন্য প্রতিবেদনে একটি কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। এর লক্ষ্য, খাদ্যব্যবস্থার রূপান্তরের মাধ্যমে ২০৫০ সালের মধ্যে নারী-পুরুষের বৈষম্য কমাতে পরীক্ষিত ও কার্যকর সমাধান বাস্তবায়ন করা।

সিজিআইএআরের নির্বাহী ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইসমাহানে এলুয়াফি বলেন, আগামী কয়েক বছরে নেওয়া সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে খাদ্য, ভূমি ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা আরও ন্যায্য ও সমতাভিত্তিক হবে, নাকি বৈষম্য আরও বাড়বে। একইভাবে এসব ব্যবস্থা আরও সহনশীল হবে, নাকি ভঙ্গুর হয়ে পড়বে, তা-ও নির্ভর করবে এসব সিদ্ধান্তের ওপর।

তিনি বলেন, “খাদ্যব্যবস্থায় নারীদের অন্তর্ভুক্ত না করে আমরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের খাদ্য চাহিদা পূরণ করতে পারব না। ২০৫০ সালের মধ্যে কীভাবে তা করা সম্ভব, এই প্রতিবেদন সে পথনির্দেশনা দেয়।”

গ্রামীণ নারীদের আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে এবং আন্তর্জাতিক কৃষক নারীর বছরকে স্বীকৃতি জানিয়ে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।

জলবায়ু পরিবর্তনে বাড়বে নারীর পানিসংগ্রহের চাপ

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পানির প্রাপ্যতা আরও কমে যেতে পারে। এতে নারীদের পানি সংগ্রহে ব্যয় করা সময় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে বিভিন্ন গবেষণার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

একই সঙ্গে ২০৫০ সালের মধ্যে গ্রামীণ নারীদের কৃষিকাজের বাইরে অন্যান্য পেশায় যুক্ত হওয়ার প্রবণতা বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। খুচরা বিক্রয়, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও পণ্য পরিবহন-সরবরাহ ব্যবস্থার মতো খাতে উন্নতমানের কর্মসংস্থান তৈরি হলে নারীদের জন্য আরও স্থিতিশীল জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

তবে প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, এ পরিবর্তনের সুফল সব নারী সমানভাবে পাবেন না। প্রয়োজনীয় দক্ষতা, সুযোগ ও সহায়তার অভাবে অনেক নারী এ রূপান্তর থেকে পিছিয়ে পড়তে পারেন।

খাদ্য, ভূমি ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান কাঠামোগত লিঙ্গবৈষম্য দূর করতে প্রতিবেদনে নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি নারীদের কারিগরি প্রশিক্ষণের সঙ্গে এমন সামাজিক উদ্যোগ যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে, যা নারীর ওপর অসমভাবে চাপানো বিনা পারিশ্রমিকের পরিচর্যার দায়িত্ব কমাবে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাঁদের স্বাধীনতা বাড়াবে।

ডিজিটাল প্রযুক্তিতে বৈষম্য কমানোর সম্ভাবনা

খাদ্যব্যবস্থায় নারী-পুরুষের বৈষম্য কমাতে ডিজিটাল প্রযুক্তিরও উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বর্তমানে প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগে নারী ও পুরুষের মধ্যে ব্যবধান রয়ে গেছে।

প্রতিবেদনে উদ্ধৃত গবেষণা অনুযায়ী, কেনিয়ায় কাঠামোগত লিঙ্গবৈষম্যের কারণে নারীরা পুরুষের তুলনায় ডিজিটাল জলবায়ুবিষয়ক পরামর্শসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত পিছিয়ে রয়েছেন।

এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মতো আধুনিক প্রযুক্তি তৈরির শুরু থেকেই নারীদের সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রযুক্তি উদ্ভাবকদের প্রতি সুপারিশ করা হয়েছে, ব্যাপকভাবে ব্যবহারের আগে এসব প্রযুক্তির নকশা ও উন্নয়নপ্রক্রিয়ায় নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

পাশাপাশি নারীরা যাতে কার্যকরভাবে এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সিজিআইএআর জেন্ডার অ্যাকসেলারেটরের পরিচালক নিকোলিন ডি হান বলেন, “এই প্রতিবেদন বিচ্ছিন্ন কিছু পদক্ষেপের সুপারিশের বাইরে গিয়ে এমন কাঠামোগত পরিবর্তনের কথা বল