জেলা প্রতিনিধি পাবনা: প্রতিবছরের মত চলতি মৌসুমেও কচুরিপানায় ঢাকা পড়েছে পাবনার শস্য ভান্ডার খ্যাত গাজনার বিল। যে কারণে আমন ধানের ফলন বিপর্যায়ের আশঙ্কা করছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা। এ সমস্যা থেকে উত্তরণে প্রযোজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন ভুক্তভোগীরা।

উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্যানুযায়ী, এ বছর গাজনার বিলের আড়াই হাজার হেক্টর জমিতে বোনা আমন ধান আবাদ করা হয়েছে। চলতি বছরে বর্ষায় গাজনার বিলে পানি তুলনামুলক বেশি হওয়ায় আমন ধানের বাম্পার ফলন হওয়া সম্ভাবনা দেখছিলেন কৃষকরা। কেননা পানি বৃদ্ধির সাথে তাল মিলিয়ে বাড়ে আমন ধানের গাছ। তবে পানি বৃদ্ধির সাথে তাল মিলিয়ে কচুরিপানার বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় আমন ধানের বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে। এতে চিন্তার ভাঁজ করেছে আমন চাষীদের কপালে।

কৃষকরা জানান, বিলে কচুরিপানা বৃদ্ধি পেলে বর্ষায় আমন ধানের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শুস্ক মৌসুমে পেঁয়াজের উৎপাদন বাধাগ্রস্থ হতে পারে। প্রতি বছরই বিল থেকে কচুরিপানা নিধনে সরকারিভাবে বিষ প্রয়োগ করা হয়। এতে সাময়িকভাবে কচুরিপানা মরলেও বর্ষায় বিল আবার কচুরিপানায় ঢাকা পড়ে। এবছরও বর্ষার আগে কচুরিপানা নিধনে সরকারিভাবে বিলে বিষ প্রয়োগ করা হয়। বিষে বিলের কিছু এলাকার কচুরিপানা ধ্বংস হলেও বেশিরভাগ এলাকা ঢাকা পড়ে আছে। এক্ষেত্রে কচুরিপানা সমস্যার স্থায়ী সমাধান চান তারা। 

সাধুপুর এলাকার আমন চাষী গফুর বলেন, জমিতে কচুরিপানা জমে থাকায় আমন ধানের ফলন কম হওয়ার ঝঁকি রয়েছে। আমরা নিজেরা চেষ্টা করছি কচুরিপানা অপসারণ করার কিন্তু পেরে উঠছি না। এবিষয়ে সরকারিভাবে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

খয়রান এলাকার কৃষক রফিকুল বলেন, ঐতিহ্যবাহী গাজনার বিল কচুরিপানায় ঢাকা পড়ায় বছরের পর বছর বিলের জমিতে পেঁয়াজ ও ধান আবাদ ব্যাহত হয়ে আসছে। স্থায়ীভাবে কচুরিপানার এই সমস্যা নিরসনে কৃষি বিভাগের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

উপজেলার উলাট গ্রামের কৃষক আলতাফ হোসেন বলেন, বিষ প্রয়োগ করে অস্থায়ী ভাবে কচুরিপানা ধ্বংস না করে শুষ্ক মৌসুমে সরকারিভাবে প্রকল্প দিয়ে শ্রমিকের মাধ্যমে গাজনার বিল থেকে কচুরিপানা অপসারণ করে কৃষকের ভোগান্তি দূর করতে হবে।

গাজনার বিলের কচুরিপানা বিষয়ে সুজানগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমি নিয়ে গাজনার বিল। এবছর বিলের প্রায় ৬ হাজার হেক্টর জমিতে কচুরিপানা জমেছে। সুজানগর উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে সরকারিভাবে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছে। এছাড়াও মাননীয় সংসদ সদস্য এ্যাড. একেএম সেলিম রেজা হাবিব সাহেবের নির্দেশনায় কৃষক, ছাত্র ও যুবসমাজ সেচ্ছাশ্রমের মাধ্যেমে কচুরিপানা অপসারণে কাজ করে যাচ্ছে। গাজনার বিল থেকে কচুরিপানা অপসারণ করে কৃষি ফসল উৎপাদন বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেন জানান তিনি।

সুজানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর রাশেদুজ্জামান বলেন, গাজনার বিলে কচুরিপানার পরিমাণ বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবছর অনেকটা কম। আমরা প্রথম থেকেই কীটনাশক ব্যবহার করে কচুরিপানা ধ্বংস করার চেষ্টা করেছি। যেগুলো অবশিষ্ট রয়েছে শুস্ক মৌসুমে অপসারণ করা হবে।

কৃষি সম্প্রাসারন অধিদপ্তর পাবনার উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম প্রামাণিক বলেন, গাজনার বিলের কচুরিপানা অপসারণে কৃষি সম্প্রাসারণ অধিদপ্তরের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তবে কচুরিপানা পুরোপুরিভাবে ধ্বংস বা অপসারণে সরকারের পাশাপাশি জমির মালিকদের কাজ করতে হবে।