কৃষি খবর ডেস্ক: হরমুজ প্রণালি দিয়ে সার পরিবহনে দ্রুত সমঝোতা না হলে এশিয়া ও আফ্রিকার কয়েকটি অঞ্চলে খাদ্যসংকট দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। সার সরবরাহ ব্যাহত থাকলে কৃষি উৎপাদন কমার পাশাপাশি খাদ্যের দামও বাড়তে পারে।

বুধবার (১৫ অক্টোবর) ব্যাংককে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের বৈঠকের ফাঁকে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ আশঙ্কার কথা জানান জাতিসংঘের আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল হোর্হে মোরেইরা দা সিলভা।

তিনি বলেন, বীজ বপনের মৌসুম সামনে থাকায় কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সমঝোতায় পৌঁছানো জরুরি। সময়মতো সার সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে কৃষি উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।

জাতিসংঘের প্রস্তাবে ওমানে একটি সমন্বয়কেন্দ্র স্থাপনের কথা বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে জাহাজ নিবন্ধন, চলাচল পর্যবেক্ষণ এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে সার পরিবহন নিশ্চিত করা হবে। দুই দেশ সম্মত হলে সাত থেকে ১০ দিনের মধ্যে পরিকল্পনাটি চালু করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন দা সিলভা।

যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট ইউরিয়া সার পরিবহনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এবং সমুদ্রপথে পরিবাহিত সালফারের প্রায় অর্ধেক হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেত। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পথে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) গত মে মাসে সতর্ক করেছিল, সারসংকটের প্রভাবে ২০২৬ সালের শেষ ভাগ থেকে ২০২৭ সাল পর্যন্ত বিশ্বে খাদ্য সরবরাহে চাপ বাড়তে পারে। আমদানিনির্ভর দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে এর প্রভাব বিশেষভাবে তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স