কৃষি খবর ডেস্ক: দেশে সবজির উৎপাদন বাড়লেও মানসম্মত বীজের জোগানে সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা খুবই সীমিত। বছরে তিন হাজার ৬০ টন সবজিবীজের চাহিদার বিপরীতে সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) সরবরাহ করছে মাত্র ১১৪ টন, যা মোট চাহিদার ৩.৭৩ শতাংশ।
বিপরীতে বেসরকারি কম্পানি ও কৃষকের নিজস্ব সংরক্ষিত বীজের ওপর নির্ভর করেই চলছে দেশের সবজি উৎপাদন। প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার এই বাজারে বেসরকারি খাতের প্রাধান্যের পাশাপাশি উচ্চমূল্যের হাইব্রিড বীজের আমদানিনির্ভরতা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে শীতকালীন সবজিবীজের চাহিদা এক হাজার ৭২৩ টন ও গ্রীষ্মকালীন সবজিবীজের চাহিদা এক হাজার ৩৩৭ টন। এর মধ্যে বেসরকারি বীজ কম্পানিগুলো সরবরাহ করে দুই হাজার ৪৮৫ টন, যা মোট চাহিদার প্রায় ৮১ শতাংশ। কৃষকের নিজস্ব উদ্যোগে সংরক্ষিত ও উৎপাদিত বীজের পরিমাণ প্রায় ৪৬১ টন।
কৃষি গবেষণাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, উন্নত জাতের বীজের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হলেও অতিরিক্ত আমদানিনির্ভরতা সরবরাহব্যবস্থাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি কিংবা আমদানিতে বিঘ্ন ঘটলে কৃষককে বাড়তি দামে বীজ কিনতে হতে পারে।
বিএডিসির মহাব্যবস্থাপক (বীজ) মো. আবীর হোসেন বলেন, ‘চাহিদা অনুযায়ী আমরা পর্যাপ্ত সবজিবীজ সরবরাহ করতে পারছি না। ভালো জাত পাওয়া গেলে উন্নতমানের বীজ উৎপাদন ও সরবরাহ করা সম্ভব হবে। বর্তমানে যেসব উচ্চ ফলনশীল জাত পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলোর সবই আশানুরূপ ভালো নয়।’
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ রবিউল ইসলাম বলেন, এ পর্যন্ত বারি ৩৪টি সবজি ফসলের ১৪৩টি জাত উদ্ভাবন করেছে। এর মধ্যে ২৭টি হাইব্রিড জাত। তবে উদ্ভাবিত জাতের বীজ কৃষকের কাছে পৌঁছে দিতে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা আরো শক্তিশালী করা প্রয়োজন। বিএডিসিতে মানসম্মত বীজ উৎপাদনে দক্ষ জনবলের ঘাটতি রয়েছে।






