কৃষি খবর ডেস্ক: যুক্তরাজ্যের ক্যামব্রিজশায়ারে দীর্ঘদিনের নিবিড় চাষাবাদে উৎপাদনক্ষমতা হারানো কৃষিজমিতে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে প্রাকৃতিক পরিবেশ। প্রকৃতি পুনরুদ্ধার প্রকল্পের আওতায় সেখানে তৈরি করা হবে তৃণভূমি, পুকুর ও জলাভূমি। এর মাধ্যমে বন্যপ্রাণীর নতুন আবাসস্থল গড়ে তোলার পাশাপাশি বিপন্ন প্রজাতির প্রাণী ও পোকামাকড়ের বেঁচে থাকার সুযোগ তৈরি হবে।
ক্যামব্রিজশায়ারের ওয়ারবয়েজ এলাকার কাছে প্রায় ৭০ একর বা ২৮ হেক্টর কম ফলনশীল আবাদি জমিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির নেতৃত্ব দিচ্ছে জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধার নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান ন্যাচুরাম।
প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, জমিটিতে কয়েক দশক ধরে নিবিড়ভাবে চাষাবাদ করা হয়েছে। ফলে আগের মতো আর খাদ্যশস্য উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই জমিটিকে প্রাকৃতিক পরিবেশে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
ন্যাচুরামের সহপ্রতিষ্ঠাতা পিটার ক্লিমট বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে এলাকায় আবারও আকাশে উড়তে দেখা যাবে স্কাইলার্ক পাখি, ফিরে আসবে বাদামি খরগোশ ও ব্যাজার। পাশাপাশি কমে আসা স্মল হিথ প্রজাতির প্রজাপতির মতো প্রাণীর জন্যও তৈরি হবে টিকে থাকার উপযুক্ত পরিবেশ।
প্রকল্পের আওতায় হাই লোড নদীর দুই কিলোমিটারেরও বেশি অংশ রয়েছে। সেখানে নদীর প্লাবনভূমি পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এতে প্রাকৃতিক জলপ্রবাহ ও বন্যার পানি ধারণের উপযোগী পরিবেশ ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল গড়ে উঠবে।
ন্যাচুরাম জানিয়েছে, প্রকল্পের মাধ্যমে বাদুড়ের মতো প্রাণীর খাদ্য সংগ্রহ ও বাসা তৈরির উপযোগী স্থানও তৈরি করা হবে। তৃণভূমি, পুকুর ও জলাভূমির সমন্বয়ে ওই এলাকায় জীববৈচিত্র্য বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে।
এটি ৩০ বছর মেয়াদি একটি বৃহত্তর প্রকল্পের অংশ। এই প্রকল্পের আওতায় মোট ২০০ একরের বেশি বা প্রায় ৮১ হেক্টর আবাদি জমি পুনরুদ্ধার করা হবে। আয়তনের হিসাবে জমিটির পরিমাণ পেশাদার ফুটবল খেলার প্রায় ১১৩টি মাঠের সমান।
প্রকল্পের আওতাভুক্ত জমি দেখভালের দায়িত্বে থাকবে স্থানীয় একটি কৃষক পরিবার, যারা আগে জমিগুলোর মালিক ছিল।
প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের আশা, দীর্ঘদিনের চাষাবাদে ক্ষতিগ্রস্ত জমিকে প্রাকৃতিক পরিবেশে ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল বাড়বে, জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধার হবে এবং স্থানীয় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।





