কৃষি খবর ডেস্ক: পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের জলপাই সংগ্রহের মৌসুমে হামলা ও সহিংসতা চালিয়েছে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) এক দিনেই অন্তত ১৯টি হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। একই দিনে পৃথক অভিযানে ১৬ ফিলিস্তিনিকে আটক করেছে ইসরায়েলি বাহিনী।
ফিলিস্তিনের সরকারি সংস্থা প্যালেস্টিনিয়ান কলোনাইজেশন অ্যান্ড ওয়াল রেজিস্ট্যান্স কমিশনের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, বসতি স্থাপনকারীদের হামলার মধ্যে রয়েছে জলপাই সংগ্রহে নিয়োজিত ফিলিস্তিনি কৃষকদের ওপর আক্রমণ, জলপাইগাছ কেটে ফেলা ও পুড়িয়ে দেওয়া এবং ফসল ও গবাদিপশু চুরি। এ ছাড়া ফিলিস্তিনিদের পাশাপাশি তাদের যানবাহনও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
কুসরা এলাকায় বসতি স্থাপনকারীরা ৫০টিরও বেশি জলপাইগাছ উপড়ে ফেলেছে। তাল এলাকায় জলপাই সংগ্রহরত কৃষকদের ওপর হামলা চালিয়ে কয়েকজনকে আহত করা হয়েছে। সেখানে এক ফিলিস্তিনির মালিকানাধীন গাড়িতেও আগুন দেওয়া হয়।
কাফর আদ-দিক এলাকায় গুলিতে এক কৃষক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, দেইর বালুত এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর সমর্থনে বসতি স্থাপনকারীদের চালানো সহিংসতার সময় তাজা গুলি ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।
হেবরনের পূর্বে বেরিন এলাকায় কৃষকদের ওপর লেলিয়ে দেওয়ায় কুকুরের আক্রমনে এক বয়স্ক ফিলিস্তিনি নারী আহত হয়েছেন। এ ছাড়া আইন কিনিয়া এলাকায় ভেড়া চুরির ঘটনা ঘটেছে।
ইয়াবরুদ এলাকায় এক ফিলিস্তিনি ব্যক্তি ও তাঁর শিশুসন্তানের ওপর হামলা চালিয়ে তাদের গাড়ি ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। সারদা ও আল-রিহান এলাকায়ও ফিলিস্তিনিদের যানবাহনে হামলার খবর পাওয়া গেছে।
জলপাই সংগ্রহ ঘিরে বাড়ছে আতঙ্ক
আল জাজিরার রামাল্লাভিত্তিক সংবাদদাতা নিদা ইব্রাহিম জানিয়েছেন, জলপাই সংগ্রহের মৌসুমে বসতি স্থাপনকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তাঁর অভিযোগ, এসব হামলার সময় অনেক ক্ষেত্রে ইসরায়েলি বাহিনীর সমর্থন বা সুরক্ষা পাচ্ছে হামলাকারীরা।
তিনি বলেন, হামলা ও হয়রানি এড়াতে ফিলিস্তিনি কৃষকদের এখন বড় দল বেঁধে জলপাই সংগ্রহ করতে যেতে হচ্ছে। তাঁদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংহতি কর্মী ও পর্যবেক্ষকেরাও থাকছেন, যাতে হামলা ঠেকানো যায়।
তবে ফসল সংগ্রহ শেষে এসব দল যখন এলাকা ছেড়ে যেতে শুরু করে, তখনই বসতি স্থাপনকারীরা আবার হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে বলে জানান তিনি।
নিদা ইব্রাহিমের ভাষ্য অনুযায়ী, রামাল্লার কাছে নতুন করে গড়ে ওঠা একটি অবৈধ বসতি স্থাপনকেন্দ্রকে ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে একটি ফিলিস্তিনি পরিবারের ওপরও হামলা চালানো হয়েছে।
তিনি বলেন, “কেউই রেহাই পাচ্ছে না।”
ফিলিস্তিনিদের জন্য জলপাই সংগ্রহ কেবল কৃষিকাজ নয়; এটি তাদের জীবিকা, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু চলমান হামলা ও হয়রানির কারণে এ বছরের মৌসুমে কৃষকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
পশ্চিম তীরে অভিযানে ১৬ ফিলিস্তিনি আটক
এদিকে, শুক্রবার অধিকৃত পশ্চিম তীরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ১৬ ফিলিস্তিনিকে আটক করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফা এবং স্থানীয় সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
দক্ষিণ পশ্চিম তীরের হেবরনে বাড়িঘরে অভিযান চালিয়ে তল্লাশির পর নয়জনকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন ইব্রাহিমি মসজিদের পরিচালক মোতাজ আবু স্নেইনে এবং মসজিদের তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা হাম্মাম আবু মারখিয়া।
ক্বালকিলিয়া শহরে অভিযানের সময় আরও পাঁচ ফিলিস্তিনিকে আটক করা হয়। এ ছাড়া নাবলুসের দক্ষিণে বেইতা এলাকায় কয়েকটি বাড়িতে অভিযান ও তল্লাশি চালিয়ে আরও দুজনকে আটক করেছে ইসরায়েলি বাহিনী।
অধিকৃত পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপন সম্প্রসারণ, ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা এবং ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনা বিরাজ করছে। জলপাই সংগ্রহের গুরুত্বপূর্ণ মৌসুমে এসব হামলা ফিলিস্তিনি কৃষকদের নিরাপত্তা ও জীবিকা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সূত্র: আল জাজিরা






