কৃষি খবর ডেস্ক: ভয়াবহ বন্যায় থাইল্যান্ডের ৪২টি প্রদেশে ২ লাখ ৬৩ হাজার হেক্টর কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ১ লাখ ৪৪ হাজার ৭৩৮ জন কৃষক।
থাইল্যান্ডের কৃষি ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের তথ্যের বরাত দিয়ে দেশটির সংবাদমাধ্যম দি নেশন ৩ অক্টোবর এ তথ্য জানিয়েছে। আগস্টের শেষদিকে শুরু হওয়া এই বন্যায় অক্টোবরেও নতুন করে ক্ষয়ক্ষতির হিসাব যুক্ত হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এটি দেশটির অন্যতম বড় কৃষি বন্যা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ধানের জমি। থাইল্যান্ড বিশ্বের অন্যতম প্রধান ধান রপ্তানিকারক দেশ হওয়ায় এই ক্ষয়ক্ষতি শুধু দেশটির কৃষক ও খাদ্য সরবরাহের ওপরই প্রভাব ফেলবে না, বরং আন্তর্জাতিক চালের বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
এছাড়া গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগিরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ২৬টি প্রদেশে প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ খামারের প্রাণী বন্যার কবলে পড়েছে। এর মধ্যে ৩৯ লাখের বেশি প্রাণী মারা গেছে অথবা নিখোঁজ হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত প্রাণীদের বড় অংশই হাঁস-মুরগি।
এদিকে ২৪টি প্রদেশে মাছ ও চিংড়ি চাষের খামারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১৭ কোটি থাই বাতের বেশি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
আগস্টে শুরু, এখনো চলছে ক্ষয়ক্ষতির হিসাব
থাইল্যান্ডে এবারের বন্যার সূত্রপাত ২১ আগস্ট ২০২৬ থেকে। বিভিন্ন এলাকায় পানি কমতে শুরু করলেও অন্য কিছু অঞ্চলে নতুন করে পানি বাড়ায় কৃষি মন্ত্রণালয় এখনো ক্ষয়ক্ষতির তথ্য হালনাগাদ করছে। সর্বশেষ সংকলিত হিসাব ২ অক্টোবর পর্যন্ত পরিস্থিতি অন্তর্ভুক্ত করেছে।
অর্থাৎ ছয় সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা এই বন্যা থাইল্যান্ডের কৃষি খাতের ওপর দীর্ঘস্থায়ী চাপ তৈরি করেছে। মূল ভূখণ্ডীয় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বর্ষা মৌসুমে দীর্ঘস্থায়ী বন্যার প্রবণতা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরও ঘন ঘন দেখা যাচ্ছে। এতে কৃষকদের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি সরকারের দুর্যোগ মোকাবিলা ব্যবস্থার ওপরও চাপ বাড়ছে।
ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সরকারি সহায়তা
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণের আওতায় আনতে নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু করেছে থাই সরকার। ৩ অক্টোবর পর্যন্ত দেশটিতে ৭ লাখ ২ হাজার ২১৭টি বন্যা সহায়তার আবেদন নিবন্ধিত হয়েছে।
চালের বাজারেও পড়তে পারে প্রভাব
থাইল্যান্ডে কৃষি এখনো কর্মসংস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। ধানের পাশাপাশি রাবার ও চিনি দেশটির উল্লেখযোগ্য রপ্তানি পণ্য। ফলে এত বড় পরিসরের বন্যা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবারের বাইরেও অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষ করে ধানের উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হলে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক চালের বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশ্ববাজারে থাইল্যান্ডের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী রপ্তানিকারকদের মধ্যে রয়েছে ভিয়েতনাম, ভারতসহ অন্যান্য দেশ। ফলে থাইল্যান্ডের উৎপাদনে বড় ধরনের ঘাটতি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে চালের সরবরাহ, বাণিজ্যিক প্রবাহ ও দামেও পরিবর্তন আসতে পারে।
হাঁস-মুরগি খাতেও বড় ধাক্কা
বন্যায় প্রায় ৪০ লাখ হাঁস-মুরগি মারা যাওয়া বা নিখোঁজ হওয়া থাইল্যান্ডের পোলট্রি খাতের জন্যও বড় আঘাত। দেশটির পোলট্রি শিল্প অভ্যন্তরীণ বাজারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক রপ্তানি চাহিদাও পূরণ করে। বিপুলসংখ্যক পাখি হারানোর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে পশুখাদ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান, হ্যাচারি ও মাংস প্রক্রিয়াজাতকারী শিল্পেও প্রভাব পড়তে পারে।
চলমান বন্যায় ধান, প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য—তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কৃষি খাতই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় থাইল্যান্ডের কৃষি অর্থনীতিতে এর প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সূত্র: গ্লোবাল এগ্রিকালচার.কম





