কৃষি খবর ডেস্ক: কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়নে অসামান্য নেতৃত্বের স্বীকৃতি পেয়েছেন কম্বোডিয়ার কৃষি সমবায় নেত্রী সেট হাচ। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) ঘোষিত ‘কৃষি-খাদ্য ব্যবস্থায় গ্রামীণ উন্নয়নের ১০০ নারী নায়ক’ তালিকায় স্থান পেয়েছেন তিনি। কৃষি উন্নয়ন সংস্থা হিফার ইন্টারন্যাশনালের সহযোগিতায় পরিচালিত একটি কৃষি সমবায়ের নেতৃত্ব দিয়ে গ্রামীণ নারীদের ক্ষমতায়ন ও কৃষকদের সংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন সেট হাচ।
২০২৬ সালের ১৫ অক্টোবর ইতালির রোমে এফএওর সদর দপ্তরে বিশ্ব খাদ্য ফোরামের এক অনুষ্ঠানে সংস্থাটির মহাপরিচালক কু দংইউ তাঁর হাতে এই স্বীকৃতি তুলে দেন। ২০২৬ সালকে আন্তর্জাতিক কৃষক নারী বর্ষ হিসেবে পালনের ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কৃষি-খাদ্য ব্যবস্থার পরিবর্তন এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে অবদান রাখা নারীদের নেতৃত্বকে সম্মান জানানোই এর উদ্দেশ্য।
কম্বোডিয়ার সিয়েম রিপ প্রদেশের স্ট্রে ফোকফাল মিয়ানচে কৃষি সমবায়ের সভাপতি সেট হাচ ২০১৩ সালে হিফার ইন্টারন্যাশনাল কম্বোডিয়া ও এর সহযোগী সংস্থাগুলোর সহায়তায় একটি নারী স্বনির্ভর গোষ্ঠীতে যোগ দেন। সেখানে তিনি সঞ্চয় কার্যক্রমে অংশ নেন, আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও নেতৃত্বের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন।
পরবর্তী সময়ে তিনি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর নেতা এবং স্বেচ্ছাসেবী সাক্ষরতা প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সহকর্মীদের উৎসাহে সমবায়ের সহসভাপতি পদে নির্বাচনে অংশ নেন। পরে ২০১৭ সালে সমবায়ের সভাপতি হন।
হিফার ইন্টারন্যাশনাল কম্বোডিয়ার কর্মসূচি পরিচালক সিয়ন সোথেরিথ বলেন, সেট হাচের নেতৃত্ব প্রমাণ করে, একজন নারীর দৃঢ় সংকল্প শত শত ক্ষুদ্র কৃষককে ক্ষমতায়িত করতে, গ্রামীণ সমাজে পরিবর্তন আনতে এবং খাদ্যব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে পারে। তাঁর এই অর্জন আরও নারী ও তরুণকে নেতৃত্বে আসতে অনুপ্রাণিত করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সেট হাচের নেতৃত্বে সমবায়টির উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণ ঘটেছে। ২০১৬ সালে মাত্র ৮২ জন সদস্য নিয়ে যাত্রা শুরু করে সমবায়টি। তাঁদের মধ্যে ৭৯ জনই ছিলেন নারী।
২০২৫ সালের মধ্যে ৩০টি গ্রামের এই সমবায়ের সদস্যসংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৫৪০ জনে। তাঁদের মধ্যে ৪৫১ জন নারী। একই সময়ে সমবায়টির মূলধন প্রায় ২ হাজার ২৭৫ মার্কিন ডলার থেকে বেড়ে ১ লাখ ৩০ হাজার ডলারেরও বেশি হয়েছে। সদস্যদের মোট শেয়ারসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ১৪টিতে।
এ ছাড়া সমবায়টির অধীনে ২৩টি স্বনির্ভর গোষ্ঠী গড়ে উঠেছে। এসব গোষ্ঠীর মোট সদস্য ৫৫৬ জন, যাঁদের মধ্যে ৪৮৭ জন নারী। গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে ৫৪ হাজার ডলারের বেশি সঞ্চয় সংগ্রহ করা হয়েছে।
গ্রামীণ গৃহিণী ও স্বেচ্ছাসেবী সাক্ষরতা প্রশিক্ষক থেকে জাতীয় পর্যায়ে পরিচিত সমবায় নেতা হয়ে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন—সেট হাচের এই যাত্রা নারীর ক্ষমতায়নের একটি উদাহরণ। জ্ঞান অর্জন, সম্মিলিত উদ্যোগ এবং নেতৃত্বের সুযোগ পেলে নারীরা নিজেদের এলাকার কৃষি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন, তাঁর অভিজ্ঞতা সেই সম্ভাবনাই তুলে ধরে।
কৃষি সমবায়ের এই অগ্রগতি দেখিয়েছে, নারীদের সংগঠিত করা ও আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ শুধু ব্যক্তিগত উন্নয়নেই সীমাবদ্ধ থাকে না; এর প্রভাব পড়ে ক্ষুদ্র কৃষক, গ্রামীণ অর্থনীতি এবং খাদ্যব্যবস্থার ওপরও।





