কৃষি খবর ডেস্ক: চায়ের কাঁচা পাতার ভালো দাম, আর সেই সম্ভাবনাকে ঘিরেই পঞ্চগড়ে বাড়ছে চা চাষের পরিধি। নতুন নতুন বাগান গড়ে ওঠায় চাহিদা বাড়ছে চা গাছের চারার। আর এই চাহিদাকে কেন্দ্র করে জেলায় গড়ে উঠেছে চা নার্সারির নতুন ব্যবসা। জেলার সদর উপজেলার সাতমেরা ইউনিয়নের লইপাড়া, বিরাজোত, পাতিপাড়া ও বন্দিপাড়াসহ আশপাশের এলাকায় গড়ে উঠেছে পাঁচ শতাধিক চা নার্সারি। এসব নার্সারিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে কর্মসংস্থানের সুযোগ।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুই-তিন বছর আগেও পঞ্চগড়ে চায়ের কাঁচা পাতার কেজি বিক্রি হতো ৮ থেকে ১২ টাকায়। বর্তমানে তা ৫০ টাকা ছাড়িয়েছে। পাতার ভালো দাম পাওয়ায় পুরোনো বাগানের পাশাপাশি নতুন বাগান তৈরিতেও আগ্রহী হচ্ছেন অনেকে। সেই সঙ্গে বাড়ছে উন্নতমানের চারার চাহিদা। জেলার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও বাইরে থেকে উদ্যোক্তারা চারা কিনতে সাতমেরায় আসছেন।
তেঁতুলিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকা দেখা গেছে, বিভিন্ন এলাকায় চায়ের নার্সারি করতে বাঁশ এবং খড় দিয়ে বিশেষভাবে বেড়া দিয়ে উপরেও অল্প ফাঁকা করে বেড়া বা বাঁশের ছাদ দেওয়া হয়েছে। উন্নতমানের চা এবং চায়ের চারা উৎপাদনে এমন আলো-আধারি পরিবেশ তৈরি জরুরি। এসব বেড়ার ফাঁক দিয়ে আলো-বাতাস প্রবেশ করতে পারলেও প্রচণ্ড রোদ এবং তাপ থেকে রক্ষা করে। ফলে চা চারার গুণগতমান ঠিক থাকে। তবে এসব এলাকায় চায়ের চারা উৎপাদন এখন শুধু কৃষি কাজের সহায়ক কার্যক্রম নয়, স্থানীয় মানুষের বিকল্প আয়ের উৎস হিসেবেও জায়গা করে নিচ্ছে নার্সারি ব্যবসা। একটি চারা উৎপাদন ও পরিচর্যায় খরচ হয় প্রায় ৩ থেকে ৫ টাকা। বছরজুড়ে পরিচর্যার পর সেই চারা বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকায়।
সাতমেরা ইউনিয়নের লইপাড়া গ্রামের কলেজ শিক্ষার্থী আমিনুল ইসলাম বলেন, আমাদের প্রতিদিন কলেজ যেতে হয় না। বাসাতেই টুকটাক কাজ করছিলাম। এখন নার্সারি হওয়াতে আমাদের অনেক সুবিধা হয়েছে। আমরা নার্সারিতে চুক্তিভিত্তিক কাজ করি। সব মিলিয়ে দিন শেষে আমরা পাঁচ থেকে সাতশ টাকা পর্যন্ত আয় করি। যারা সারাদিন কাজ করেন, তারা আরও বেশি টাকা পান।
বাংলাদেশ চা বোর্ড এর পঞ্চগড় আঞ্চলিক চা বোর্ড সূত্র জানায়, পঞ্চগড়ে চা চাষের পরিধি ক্রমেই বিস্তৃত হয়েছে। ২০২৫ সালের উৎপাদন মৌসুমে জেলায় ৯ হাজার ৮১৯ দশমিক ৭৩ একর জমিতে চা চাষ হয়। এ সময়ে ১ হাজার ৫২৮টি নিবন্ধিতসহ ছোট-বড় মোট ৭ হাজার ৩৪৮টি বাগান থেকে ৮ কোটি ৩২ লাখ ৮৮ হাজার ৪৪০ দশমিক ৮৭ কেজি কাঁচা চা পাতা উৎপাদিত হয়। জেলার চালু ৩০টি চা কারখানায় উৎপাদিত হয় ১ কোটি ৭২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৬৬ কেজি তৈরি চা। চা চাষের এই বিস্তার নার্সারি ব্যবসার জন্য বড় বাজার তৈরি করছে। নতুন বাগান করতে প্রয়োজন বিপুলসংখ্যক চারা।
পঞ্চগড় আঞ্চলিক চা বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কৃষিবিদ আমির হোসেন বলেন, তিন বছর আগেও পঞ্চগড়ে চায়ের কাঁচা পাতার দাম ৮ থেকে ১০ টাকা ছিল। মূলত অকশন মার্কেটে চায়ের দামের উপর নির্ভর করেই পঞ্চগড়ের কারখানা মালিকরা চায়ের কাঁচা পাতার দাম নির্ধারণ করেন। বর্তমানে অকশন মার্কেটে ভালো দাম পাওয়ায় ক্ষুদ্র চা চাষিরাও চায়ের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন। এ কারণে উত্তরাঞ্চল চা চাষ প্রকল্পের আওতায় চা চাষের সম্প্রসারণ হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় নতুন নতুন বাগান গড়ে উঠছে।
সূত্র: জাগো নিউজ





