কৃষি খবর ডেস্ক: কৃষি খাতে ডিজিটাল পরিকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগে বড় মাইলফলক অর্জন করেছে ভারত। গত ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত দেশটিতে ১১ কোটি ফার্মার আইডি তৈরি হয়েছে, যা নির্ধারিত ৩১ মার্চ ২০২৭-এর সময়সীমার পাঁচ মাসেরও বেশি আগে সম্পন্ন হয়েছে। ভারতের কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।

ডিজিটাল এগ্রিকালচার মিশনের আওতায় এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো কৃষকদের সরকারি পরিষেবা পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা, বারবার নথিপত্র জমা দেওয়ার ঝামেলা কমানো এবং প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া। ভারতের কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান এই সাফল্যের জন্য কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকার এবং মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সমন্বিত প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করেছেন।

কৃষকদের কী সুবিধা হবে?

ফার্মার আইডির মাধ্যমে কৃষকদের পরিচয় ও সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই সহজ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর ফলে কৃষিঋণ, কিষান ক্রেডিট কার্ড, ফসলবিমা, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিপূরণ এবং ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে (এমএসপি) কৃষিপণ্য সংগ্রহের মতো পরিষেবা পেতে সুবিধা হতে পারে।

একটি অভিন্ন ডিজিটাল রেকর্ড ব্যবহার করা গেলে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে একই নথি বারবার জমা দেওয়ার প্রয়োজন কমতে পারে। পাশাপাশি সরকারি প্রকল্পের আওতায় কারা সুবিধা পাচ্ছেন এবং কারা বাদ পড়ছেন, তা শনাক্ত করাও সহজ হতে পারে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ফার্মার আইডিভিত্তিক পরিষেবা ব্যবস্থার মাধ্যমে ইতিমধ্যে ছয় কোটির বেশি কৃষক বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন। ডিজিটাল এগ্রিকালচার মিশন ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অনুমোদন পায়।

অন্তর্ভুক্তি ও তথ্যের সুরক্ষা বড় চ্যালেঞ্জ

এই উদ্যোগের ক্ষেত্রে অন্যতম চ্যালেঞ্জ হলো জমির মালিকানা-সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক নথি নেই, এমন বর্গাচাষি ও প্রকৃত চাষিদের ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনা। জমির রেকর্ডের সঙ্গে কৃষকের পরিচয়ের অমিল থাকলে যোগ্য ব্যক্তিরা পরিষেবা পেতে সমস্যায় পড়তে পারেন।

এ ছাড়া তথ্যের নির্ভুলতা, ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা এবং কেন্দ্র ও রাজ্যের বিভিন্ন তথ্যভান্ডারের মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করাও জরুরি। ভুল বা পুরোনো তথ্যের কারণে যাতে কোনো কৃষক সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন, সে জন্য কার্যকর সংশোধন ও অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা প্রয়োজন।

সাফল্য নির্ভর করবে বাস্তব সুবিধার ওপর

ভারতে ১১ কোটি ফার্মার আইডি তৈরি ডিজিটাল কৃষি প্রশাসনের সম্প্রসারণে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি। তবে শুধু পরিচয়পত্র তৈরির সংখ্যা দিয়ে এই উদ্যোগের সাফল্য বিচার করা যাবে না।

কৃষকেরা কত সহজে ঋণ পাচ্ছেন, ফসলবিমার দাবি কতটা কার্যকরভাবে নিষ্পত্তি হচ্ছে এবং দুর্যোগের পর সরকারি সহায়তা কত দ্রুত পৌঁছাচ্ছে—এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ। শেষ পর্যন্ত ডিজিটাল ফার্মার আইডির সাফল্য নির্ভর করবে প্রকৃত কৃষকদের কাছে সঠিক সময়ে প্রাপ্য সুবিধা পৌঁছে দেওয়া এবং কৃষি পরিষেবাকে আরও স্বচ্ছ ও সহজলভ্য করে তোলার ওপর।

সূত্র: গ্লোবাল নিউজ