কৃষি খবর ডেস্ক: এক দশকের অন্যতম শুষ্ক বর্ষা মৌসুমের পর বড় ধরনের ফসলহানির আশঙ্কা পূর্ব আফ্রিকায়। জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলা বর্ষায় অঞ্চলটির উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় স্বাভাবিকের তুলনায় ১০০ থেকে ৩০০ মিলিমিটার পর্যন্ত কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রেকর্ড উচ্চ তাপমাত্রা।
জিওগ্ল্যাম ক্রপ মনিটর-এর তথ্য অনুযায়ী, কেনিয়া, ইথিওপিয়া, সুদান, দক্ষিণ সুদান, উগান্ডা ও সোমালিয়ার বিভিন্ন এলাকায় এবার গড়ের তুলনায় কম ফসল উৎপাদনের আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে কমে যেতে পারে পশুপালনের জন্য প্রয়োজনীয় চারণভূমি।
পশ্চিম কেনিয়ায় ভুট্টার ফলন কমার আশঙ্কা
কেনিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে পরিস্থিতি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। দেশটির কৃষি মন্ত্রণালয়ের অংশীদারত্বে পরিচালিত প্রকল্পের পূর্বাভাস অনুযায়ী, পশ্চিম কেনিয়ার কিছু এলাকায় এবার ভুট্টার ফলন গড়ের তুলনায় ৩৬ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে।
পশ্চিম কেনিয়া দেশটির অন্যতম প্রধান ভুট্টা উৎপাদন অঞ্চল। ফলে উৎপাদন কমে গেলে দেশটির খাদ্যনিরাপত্তায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে।
শুরু থেকেই ছিল বৃষ্টির ঘাটতি
এবারের পরিস্থিতি মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ তৈরি হওয়া খরার মতো নয়। জুন থেকেই প্রয়োজনীয় পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়নি। ফলে ফসলের বেড়ে ওঠার গুরুত্বপূর্ণ সময়েই মাটির আর্দ্রতা কমে যায়।
রেকর্ড উচ্চ তাপমাত্রা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। অতিরিক্ত গরমে মাটির পানি দ্রুত শুকিয়ে যাওয়ায় ফসলের ওপর চাপ বেড়েছে। ফলে শুধু বৃষ্টিপাতের ঘাটতির হিসাবের চেয়েও ক্ষতি বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পশুপালনেও বাড়ছে ঝুঁকি
খরার কারণে শুধু কৃষকরাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না। পূর্ব আফ্রিকার বহু মানুষ পশুপালনের ওপর নির্ভরশীল। চারণভূমিতে ঘাসের বৃদ্ধি কমে গেলে গবাদিপশুর শারীরিক অবস্থা ও দুধ উৎপাদন কমতে পারে।
এ ছাড়া পশুর বাজারমূল্যও কমে যেতে পারে। অনেক পরিবারের প্রধান সম্পদ গবাদিপশু হওয়ায় সংকটের সময়ে পশু বিক্রি করে খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজন মেটানো কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা কাজে লাগানোর সুযোগ
২০২০ থেকে ২০২৩ সালের ভয়াবহ খরার অভিজ্ঞতার পর পূর্ব আফ্রিকায় ফসল ও আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা আরও উন্নত করা হয়েছে। জিওগ্ল্যাম ক্রপ মনিটর এবং কেনিয়ার -এর মতো ব্যবস্থা সম্ভাব্য ফসলহানি সম্পর্কে আগাম সতর্কতা দিতে পারছে।
চলতি মৌসুমে ফসল ঘরে তোলার কয়েক সপ্তাহ আগেই ক্ষতির পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে। ফলে খাদ্য আমদানির পরিকল্পনা, জরুরি খাদ্য সহায়তা এবং কৃষকদের খরাপ্রতিরোধী বীজ সরবরাহের মতো পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
তবে বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ হলো, আগাম সতর্কতা পাওয়া গেলেও যদি অর্থায়ন ও ত্রাণ সরবরাহে দেরি হয়, তাহলে পরিস্থিতি দ্রুত খাদ্যসংকটে রূপ নিতে পারে।
সূত্র: গ্লোবাল এগ্রিকালচার.কম






