কৃষি খবর ডেস্ক: ভয়াবহ বন্যায় একের পর প্লাবিত হয় চট্টগ্রামের বাঁশখালীর কৃষিজমি। ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েন উপজেলার ২৬ হাজার কৃষক। তবে সেই ক্ষতি কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন তার। মাঠজুড়ে এখন আগাম সবজির ফলন। বাজারে মিলছে কাঙ্খিত দামও।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছরের মাঝামাঝিতে প্রাকৃতিক দুর্যোগে বাঁশখালীতে প্রায় ২৬ হাজার ৮০০ জন কৃষক সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, যার আর্থিক পরিমাণ প্রায় ৫৫ কোটি টাকা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার জলদী, বৈলছড়ি, কালীপুর, সরল, কাথারিয়া, গণ্ডামারা, পুঁইছড়ি, সাধনপুর, পুকুরিয়া ও শীলকূপসহ পাহাড়ি ও সমতল এলাকায় এবার মূলার বাম্পার ফলন হয়েছে। পাশাপাশি টমেটো, শিম, বরবটি, তিতকরলা, চিচিঙ্গা ও কাকরোলের মতো সবজির আশাব্যঞ্জক চাষাবাদ হয়েছে।
স্থানীয় বাজারগুলোর চাহিদা মিটিয়ে এসব সবজি এখন শহরের বাজারেও সরবরাহ করা হচ্ছে বলে সূত্র জানায়।
কৃষিশ্রমিক ও সংশ্লিষ্টদের আশা, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং সবজির বর্তমান বাজারমূল্য বজায় থাকলে বন্যার ক্ষত কাটিয়ে দ্রুত আগের অবস্থায় ফিরে আসবে বাঁশখালীর কৃষিখাত।
জলদীর জুমচাষি ওয়াজেদ মিয়া জানান, পাহাড়ে এক বিঘা জমিতে তিনি মূলার চাষ করেছিলেন, ফলনও হয়েছে চমৎকার। বর্তমানে মিয়ার বাজার, টাইমবাজার ও রামদাস মুন্সির হাটের মতো স্থানীয় পাইকারি ও খুচরা বাজারে প্রতিকেজি মূলা বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকায়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শ্যামল চন্দ্র সরকার বলেন, বন্যায় ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সার, মানসম্মত বীজসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় প্রণোদনা ও পরামর্শমূলক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।



