কৃষি খবর ডেস্ক: বাংলাদেশের নদীবেষ্টিত চরাঞ্চলে অনেক পরিবারের জীবিকার অন্যতম উৎস পশুপালন। বিস্তীর্ণ মাঠে প্রাকৃতিক ঘাস ও সহজলভ্য খাবারের সুবিধা থাকায় ভেড়া পালনে আগ্রহী হচ্ছেন প্রান্তিক খামারিরা। তবে ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস ও নদীভাঙনের মতো দুর্যোগে তাদের দীর্ঘদিনের সঞ্চিত সম্পদ পড়ে ঝুঁকিতে। পাশাপাশি বাজারে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় বাড়ছে লোকসানের আশঙ্কা।
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ঢালচরের খামারিরা জানান, দুর্যোগের সময় পশুর নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ। নিচু চর প্লাবিত হলে পশুর বিচরণক্ষেত্র তলিয়ে যায়, ঘাসের সংকট দেখা দেয় এবং বিশুদ্ধ পানির অভাবে পশু অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। পর্যাপ্ত উঁচু জমি, পশুর আশ্রয়কেন্দ্র ও দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা না থাকায় অনেক খামারিকে বিপাকে পড়তে হয়।
দুর্যোগের পরও সংকট শেষ হয় না। ঘাসের মাঠ নষ্ট হলে পশুখাদ্য সংগ্রহ কঠিন হয়ে পড়ে। যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়লে চিকিৎসা ও খাদ্য সরবরাহ ব্যাহত হয়। সংসারের খরচ মেটাতে অনেক সময় বাধ্য হয়ে কম দামে পশু বিক্রি করতে হয় খামারিদের।
ভেড়ার ন্যায্যমূল্য না পাওয়াও বড় সমস্যা। প্রাকৃতিক খাবার সহজলভ্য হলেও পশু কেনা, চিকিৎসা, পরিচর্যা ও পরিবহনে খরচ রয়েছে। অথচ স্থানীয় বাজারে ক্রেতার স্বল্পতা এবং ভেড়ার মাংস সম্পর্কে সীমিত পরিচিতির কারণে অনেক সময় প্রত্যাশিত দাম পাওয়া যায় না। এতে এই পেশার প্রতি খামারিদের আগ্রহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
ভোলা জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, বাংলাদেশের প্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সক্ষমতা এবং তুলনামূলক কম খাদ্যে টিকে থাকার কারণে ভেড়া পালন সম্ভাবনাময়। বিশেষ করে চরাঞ্চলের ক্ষুদ্র কৃষক ও ভূমিহীন পরিবারের আয়ের উৎস হতে পারে এই খাত।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভেড়া পালনের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে নিয়মিত টিকাদান, উন্নত পরিচর্যা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এবং সম্পূরক খাবারের ব্যবস্থা জরুরি। পাশাপাশি দুর্যোগের সময় পশুর নিরাপদ আশ্রয়, জরুরি খাদ্য মজুত এবং দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা থাকতে হবে।
খামারিদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে বাজারসংযোগ বাড়ানো, নির্ভরযোগ্য বাজারদর জানানো এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভরতা কমানোর পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে সহজ শর্তে ঋণ, আর্থিক সহায়তা ও উপযোগী বীমার সুযোগ তৈরি করা গেলে দুর্যোগের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সহজ হবে।
সব মিলিয়ে, চরাঞ্চলে ভেড়া পালনকে টেকসই জীবিকার উৎস করতে প্রাকৃতিক সুবিধার পাশাপাশি প্রয়োজন কার্যকর প্রাণিসম্পদ সেবা, দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার উদ্যোগ।






