কৃষি খবর ডেস্ক: ফ্রান্সে প্রথমবারের মতো মানুষের শরীরে শনাক্ত হয়েছে শামোন্ডা ভাইরাসের সংক্রমণ। গুরুতর অসুস্থ এক ব্যক্তির শরীরে ভাইরাসটি শনাক্ত হওয়ার পর সংক্রমণের উৎস ও মৃত্যুর সঙ্গে এর সম্ভাব্য সম্পর্ক খতিয়ে দেখছে দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। তবে এখন পর্যন্ত সাধারণ মানুষের জন্য কোনো জনস্বাস্থ্যঝুঁকি শনাক্ত হয়নি বলে জানিয়েছে তারা।

বৃহস্পতিবার ফ্রান্সের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানায়। লিঁও শহরে চিকিৎসাধীন ওই ব্যক্তির রোগ প্রতিরোধক্ষমতা মারাত্মকভাবে দুর্বল ছিল। প্রাথমিক তদন্তে তার মস্তিষ্কে দেখা দেওয়া কিছু জটিলতার সঙ্গে ভাইরাসটির সংক্রমণের সম্ভাব্য সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে ভাইরাসটি সরাসরি তার মৃত্যুর কারণ কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

ফ্রান্সের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের ধারণা, দেশটির পূর্বাঞ্চলে রক্তচোষা ক্ষুদ্র পতঙ্গের কামড়ে ওই ব্যক্তি সংক্রমিত হয়ে থাকতে পারেন। চলতি বছরের বসন্ত ও গ্রীষ্মে ওই অঞ্চলের বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে শামোন্ডা ভাইরাসের সংক্রমণের তথ্য পাওয়া যায়।

সাধারণত রক্তচোষা ক্ষুদ্র পতঙ্গের মাধ্যমে প্রাণীদের মধ্যে ছড়ায় শামোন্ডা ভাইরাস। গবাদিপশু এ ভাইরাসের প্রধান বাহক হিসেবে পরিচিত। তবে চলতি বছরের গ্রীষ্মে ফ্রান্সে ভেড়া-ছাগলজাতীয় প্রাণী ও ঘোড়ার মধ্যেও বিচ্ছিন্ন সংক্রমণের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে।

১৯৬০-এর দশকের মাঝামাঝি নাইজেরিয়ায় প্রথম শনাক্ত হয় শামোন্ডা ভাইরাস। পরে আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চল ও জাপানে গবাদিপশুর মধ্যে এর সংক্রমণ দেখা যায়। চলতি বছরের গ্রীষ্মে প্রথমবারের মতো ইউরোপের গবাদিপশুর খামারেও ভাইরাসটির উপস্থিতি শনাক্ত হয়।

মানুষের শরীরে সংক্রমণের এই ঘটনাকে ব্যতিক্রমী হিসেবে দেখছে ফ্রান্সের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। আক্রান্ত ব্যক্তির রোগ প্রতিরোধক্ষমতা অত্যন্ত দুর্বল থাকায় এমন সংক্রমণ ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে, ঘটনাটি সম্পর্কে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও ইউরোপীয় রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রকে (ইসিডিসি) অবহিত করেছে ফ্রান্স। সংক্রমণের সম্ভাব্য জনস্বাস্থ্যগত প্রভাব মূল্যায়নে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ করছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য অন্য সংক্রমণের ঘটনা শনাক্ত করতে পরীক্ষার সক্ষমতা বাড়ানো এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তবে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের বর্তমান মূল্যায়ন অনুযায়ী, সাধারণ জনগণের জন্য এখন পর্যন্ত কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি শনাক্ত হয়নি। সংক্রমণের উৎস, বিস্তারের ধরন এবং মৃত্যুর সঙ্গে ভাইরাসটির সম্পর্ক নিশ্চিত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।