কৃষি খবর ডেস্ক: গত বছরের লোকসানের ক্ষত এখনো ভুলতে পারেননি দিনাজপুরের হিলির কৃষকরা। সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবার নতুন করে আগাম আলু চাষে নেমেছেন তাঁরা।

আমন ধান কাটার পর জমি ফেলে না রেখে আলু রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। তবে বীজ, সার, জ্বালানি ও শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় নতুন মৌসুমেও লোকসানের শঙ্কা তাঁদের পিছু ছাড়ছে না।

সাধারণত ৫০ থেকে ৫৫ দিনের মধ্যে আগাম জাতের আলু তোলা যায়। আমন ধান কাটার পর জমি কাজে লাগিয়ে বাড়তি আয়ের সুযোগ থাকায় এই চাষে আগ্রহ তাঁদের।

হাকিমপুর উপজেলার মুহাড়াপাড়া গ্রামের কৃষক বেলাল হোসেন, বৈগ্রামের লুতফুর রহমান ও আলিহাটের মোবারক হোসেন জানান, বাজারে অন্য আলুর সরবরাহ তুলনামূলক কম থাকায় আগাম আলুর ভালো দাম পাওয়ার আশা করেন তাঁরা। তবে গত বছর প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ায় অনেক কৃষককে লোকসান গুনতে হয়েছে।

এবারও উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তাঁরা। কৃষক মনজের আলী বলেন, গত বছর যে বীজ ৮০০ টাকায় কিনেছিলেন, এবার তা কিনতে হচ্ছে এক হাজার ২০০ টাকায়। পাশাপাশি বেড়েছে সার, জ্বালানি ও শ্রমিকের মজুরি। ফলে উৎপাদন খরচ মেটানোর পর কতটা লাভ থাকবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

কৃষকদের আশঙ্কা, ভালো ফলন হলেও বাজারে ন্যায্য দাম না পেলে আবারও লোকসানে পড়তে হবে। উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আলুর দাম নিশ্চিত করার দাবি তাঁদের।

হাকিমপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরজেনা বেগম বলেন, গত সপ্তাহ থেকে উপজেলায় আগাম জাতের আলু চাষ শুরু হয়েছে। খট্টামাধবপাড়া ইউনিয়নে এখন পর্যন্ত প্রায় ৮০ হেক্টর জমিতে আলু রোপণ সম্পন্ন হয়েছে। এই জাতের আলু ৫০ থেকে ৫৫ দিনের মধ্যে উত্তোলন করা যায়। কৃষি বিভাগের পরামর্শ মেনে চাষাবাদ করলে ভালো ফলন পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন তিনি।

নতুন মৌসুমে ভালো ফলন ও ন্যায্য দামের প্রত্যাশায় মাঠে নেমেছেন কৃষকরা। তবে বাড়তি উৎপাদন খরচের চাপ তাঁদের সেই আশায় অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।