কৃষি খবর ডেস্ক: যুক্তরাজ্যে পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রকল্পে সরকারি অর্থ পেতে আবেদন করার সুযোগ চালু হওয়ার মাত্র ছয় ঘণ্টার মধ্যেই নির্ধারিত অর্থ শেষ হয়ে গেছে। এতে বহু কৃষক অর্থ সহায়তা না পেয়ে হতাশ হয়েছেন।

নরফোকের গ্রেট ম্যাসিংহামের কৃষক লেক্স ব্রুন আশা করেছিলেন, নতুন সরকারি প্রকল্প থেকে তিনি প্রায় ১ লাখ পাউন্ড অর্থ সহায়তা পাবেন। কিন্তু আবেদন শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বরাদ্দ শেষ হয়ে যাওয়ায় তিনি অর্থ পাওয়ার সুযোগ হারান।

ব্রুন বলেন, বিষয়টি তার জন্য ‘খুবই, খুবই উদ্বেগজনক’। সরকারি এই প্রকল্পের ওপর আস্থা রেখে তিনি নিজের জমির একটি অংশ পরিবেশ সংরক্ষণমূলক কাজে ব্যবহার করছিলেন।

এই প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের জমির কিছু অংশ পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাপনায় ব্যবহার করার বিনিময়ে অর্থ দেওয়া হয়। এর মধ্যে জমিতে গাছের বেড়া তৈরি, বুনো ফুলের জন্য জায়গা রাখা এবং মাটির উর্বরতা ও স্বাস্থ্য রক্ষার মতো কার্যক্রম রয়েছে।

চলতি বছরের এই প্রকল্পে মোট ২৫ কোটি ৩০ লাখ পাউন্ড বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। ২২ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় আবেদন গ্রহণ শুরু হয়। কিন্তু বিকেল ৩টা ৪৮ মিনিটের মধ্যেই পুরো অর্থের জন্য আবেদন জমা পড়ে যায়।

গম, যব ও সরিষাজাতীয় ফসল চাষ করা ব্রুন বলেন, এত দ্রুত অর্থ শেষ হয়ে যাওয়ার ঘটনা নজিরবিহীন। তিনি পরিস্থিতিকে জনপ্রিয় ব্যান্ড ওএসিসের কনসার্টের টিকিট পাওয়ার জন্য হুড়োহুড়ির সঙ্গে তুলনা করেন।

ব্রুনের পরিবেশবান্ধব কার্যক্রমের মধ্যে জমির একটি অংশে বুনো ফুল চাষ করা রয়েছে। এর মাধ্যমে পাখি ও বিভিন্ন পোকামাকড়ের জন্য প্রাকৃতিক পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে।

তিনি সর্বোচ্চ ১ লাখ পাউন্ড পর্যন্ত অর্থ পাওয়ার আশা করেছিলেন। কিন্তু বিকেল ৪টার দিকে অনলাইনে আবেদন শেষ করার সময় তিনি দেখেন, আবেদন গ্রহণের সুযোগ ইতোমধ্যেই বন্ধ হয়ে গেছে।

জ্বালানি ও সারসহ কৃষি উপকরণের খরচ ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি ফসল বিক্রি করে প্রত্যাশিত আয় না পাওয়ায় ব্রুন এখন জমির আরও বেশি অংশ বাণিজ্যিক ফসল উৎপাদনে ব্যবহার করার কথা ভাবছেন।

তিনি বলেন, এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক পরিস্থিতি। সরকারের পক্ষ থেকে তারা যে লক্ষ্য অর্জনের কথা বলেছিল, এই ঘটনায় সেই বিষয়ে কৃষকদের আস্থাও নষ্ট হয়েছে।

দেশটির কৃষি ও ভূমি ব্যবসায়ীদের সংগঠন কান্ট্রি ল্যান্ড অ্যান্ড বিজনেস অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, ব্রুনের মতো আরও অনেক কৃষক এবার অর্থ সহায়তা পাননি। অর্থ না পেলে অনেক কৃষক পরিবেশ সংরক্ষণমূলক কার্যক্রম কমিয়ে দিতে বাধ্য হতে পারেন।

সংগঠনটির আঞ্চলিক পরিচালক ক্যাথ ক্রাউথার বলেন, অনেক কৃষক একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। তিনি অক্টোবরে সরকারের বাজেটে কৃষিখাতে আরও অর্থ বরাদ্দের আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্য ও প্রতিরক্ষাসহ অনেক খাতই গুরুত্বপূর্ণ। তবে খাদ্য উৎপাদনও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং কৃষকদের সহায়তা করা প্রয়োজন।

ওয়েভেনি ভ্যালির গ্রিন পার্টির সংসদ সদস্য অ্যাড্রিয়ান রামসে বলেন, অনেক কৃষক এই প্রকল্পের আবেদন প্রক্রিয়া নিয়ে হতাশ হয়েছেন। ভবিষ্যৎ বছরগুলোতে এই অর্থ সহায়তা পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়েও কৃষকদের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে।

কৃষিমন্ত্রী স্টিফেন মরগান বলেন, যারা গভীরভাবে হতাশ হয়েছেন, তিনি তাদের উদ্বেগের কথা শুনেছেন। চলতি বছরের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে কৃষকদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

একই সঙ্গে ভবিষ্যতে শুধু আগে আবেদন করলে আগে অর্থ পাওয়ার পদ্ধতির পরিবর্তে অন্য কোনো ব্যবস্থা চালু করা যায় কি না, সেটিও সরকার বিবেচনা করছে।

যুক্তরাজ্যের পরিবেশ, খাদ্য ও গ্রামীণ বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৭ সালের অর্থ সহায়তার আবেদন ও বরাদ্দ নিয়ে আরও তথ্য শিগগিরই জানানো হবে। সূত্র: বিবিসি