কৃষি খবর ডেস্ক: চীন থেকে ফসফেট সার রপ্তানি ২০২৫ সালের প্রায় ৫৩ লাখ টন থেকে কমে ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। এতে বিশ্ববাজারে সারের সরবরাহ সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব বাংলাদেশেও পড়তে পারে। বিশেষ করে আমদানিনির্ভর সার সরবরাহে ব্যয় বাড়লে কৃষি উৎপাদন খরচ ও কৃষকদের ওপর চাপ বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
আন্তর্জাতিক মূল্যতথ্য সরবরাহকারী সংস্থা আর্গাস মিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, সালফারের ঘাটতির কারণে চীনা উৎপাদকরা এখন মূলত দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণে মনোযোগ দিচ্ছেন। ফসফেট সার উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল সালফারের সংকটের পাশাপাশি চীন ফসফেট সার ও সালফিউরিক অ্যাসিড রপ্তানিতেও বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।
আর্গাসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৭ সালে চীনের ফসফেট সার রপ্তানি বেড়ে প্রায় ২০ লাখ টন হতে পারে। তবে তা ২০২৫ সালের তুলনায় অনেক কম। সালফারের সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে রপ্তানি পুরোপুরি পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা কম।
বাংলাদেশের কৃষিতে কী প্রভাব পড়তে পারে?
বাংলাদেশে ধানসহ বিভিন্ন ফসলের উৎপাদনে ডিএপি ও অন্যান্য ফসফেট সার গুরুত্বপূর্ণ। চীনের সরবরাহ কমে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে এসব সারের দাম বাড়লে বাংলাদেশের আমদানি ব্যয়ও বাড়তে পারে। বিকল্প উৎস থেকে সার সংগ্রহে প্রতিযোগিতা এবং পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করতে পারে।
এর ফলে সরকারকে সার আমদানিতে বেশি অর্থ ব্যয় করতে হতে পারে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্যবৃদ্ধি দীর্ঘস্থায়ী হলে ভর্তুকির ওপর চাপ বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। তবে বাংলাদেশের বাজারে এর প্রকৃত প্রভাব নির্ভর করবে আমদানির উৎস, মজুত, আন্তর্জাতিক দর এবং সরকারের মূল্যনীতি ও ভর্তুকি ব্যবস্থাপনার ওপর।
ব্রাজিলেও কমছে উৎপাদন
সালফারের ঘাটতিতে ব্রাজিলের কয়েকটি সার কারখানায় উৎপাদন কমাতে হয়েছে। ফলে বিশ্বের দুই গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন অঞ্চলে একসঙ্গে সংকট তৈরি হয়েছে। আর্গাসের সূচক অনুযায়ী, প্রধান সার উপাদানগুলোর মধ্যে ফসফেট বর্তমানে কৃষকদের জন্য সবচেয়ে কম সাশ্রয়ী হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে, চীনের ইউরিয়া রপ্তানি ২০২৬ সালে ৬০ থেকে ৭০ লাখ টন হতে পারে বলে পূর্বাভাস রয়েছে। এতে ইউরিয়ার বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও ফসফেট সারের সরবরাহ ও দাম নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
চীনের রপ্তানি কম থাকলে দক্ষিণ এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার আমদানিকারকদের মরক্কো, সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো বিকল্প সরবরাহকারীদের ওপর নির্ভরতা বাড়াতে হতে পারে। এতে একই সরবরাহের জন্য প্রতিযোগিতা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশ্ববাজারে ফসফেট সারের সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে বাংলাদেশেও সার আমদানির ব্যয় ও কৃষি খাতের খরচের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে। তাই আন্তর্জাতিক বাজারের দাম, সরবরাহ পরিস্থিতি এবং দেশের সার মজুতের ওপর নজর রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: গ্লোবাল এগ্রিকাচার





