কৃষি খবর ডেস্ক: বাংলাদেশের অর্থনীতি ও খাদ্যনিরাপত্তার ভিত্তি কৃষি। তবে যুগের পর যুগ জমির অধিকার, ফসলের ন্যায্যমূল্য ও কৃষি উপকরণ পাওয়ার দাবিতে সংগ্রাম করতে হয়েছে কৃষকদের। সময়ের সঙ্গে কৃষির ধরন বদলালেও কৃষকের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই এখনো শেষ হয়নি।

একসময় কৃষকের আন্দোলনের মূল বিষয় ছিল জমির অধিকার, খাজনা ও শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। নীল চাষের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ থেকে তেভাগা আন্দোলন উপমহাদেশের কৃষক সংগ্রামের ইতিহাসে রয়েছে নানা অধ্যায়।

বর্তমানে কৃষকের চ্যালেঞ্জ আরও বিস্তৃত। বীজ, সার, সেচ, শ্রম ও পরিবহন খরচ বাড়লেও অনেক সময় উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। সরবরাহব্যবস্থার বিভিন্ন স্তর ও মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে উৎপাদিত পণ্যের মূল্য থেকে কৃষকের প্রাপ্য অংশ কমে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে।

এদিকে, আধুনিক প্রযুক্তি কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্মার্টফোন, আবহাওয়ার পূর্বাভাস, মাটির তথ্য এবং ডিজিটাল বাজারব্যবস্থা ব্যবহার করে কৃষক উৎপাদন ও বিপণনের সিদ্ধান্ত আরও কার্যকরভাবে নিতে পারেন। তবে এসব প্রযুক্তির সুবিধা কৃষকের কাছে সহজলভ্য করাও জরুরি।

কৃষকের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে জলবায়ু পরিবর্তন। অনিয়মিত বৃষ্টি, খরা, বন্যা, জলাবদ্ধতা, লবণাক্ততা ও নতুন রোগ-পোকার আক্রমণ কৃষি উৎপাদনে ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে জলবায়ু-সহনশীল ফসলের জাত, উন্নত পানি ব্যবস্থাপনা, কৃষি বিমা ও নির্ভরযোগ্য পরামর্শ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় কৃষকের ক্ষমতায়নে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, মানসম্মত কৃষি উপকরণ সরবরাহ, সহজ শর্তে ঋণ, প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার বাড়ানোর বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে।
কৃষককে শুধু খাদ্য উৎপাদনকারী নয়, একজন উদ্যোক্তা হিসেবে বিবেচনা করে উৎপাদন থেকে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত তাঁর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি কৃষকের সমস্যা, সাফল্য ও অধিকার নিয়ে গণমাধ্যম এবং কৃষি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

কৃষকের সংগ্রাম এখন শুধু জমি কিংবা ফসলের অধিকারেই সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তথ্য, প্রযুক্তি, পরিবেশ সুরক্ষা ও বাজারে ন্যায্য অংশীদারত্ব। কৃষকের শ্রমের মর্যাদা এবং ন্যায্য আয় নিশ্চিত করা গেলে শক্তিশালী হবে গ্রামীণ অর্থনীতি, বাড়বে খাদ্যনিরাপত্তা এবং এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।