কৃষি খবর ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে গরুর মাংসের উৎপাদন কমে যাওয়া, পশুখাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে মাংসের বাজারে সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে ব্রাজিল, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনে গবাদিপশুর সংখ্যা কমছে। অন্যদিকে, পশুখাদ্যের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ভারতে মুরগির মাংস উৎপাদন কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আল জাজিরার এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বের ৯০ শতাংশেরও বেশি মানুষ কোনো না কোনো ধরনের মাংস খায়। ফলে উৎপাদন ও সরবরাহে সংকট দেখা দিলে বিশ্বজুড়ে খাদ্যবাজারে এর প্রভাব পড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ব্রাজিলে গরুর মাংসের উৎপাদন ২ শতাংশ, যুক্তরাষ্ট্রে ৪ শতাংশ কমতে পারে। চীনেও ২০২৪ সালের তুলনায় গরুর মাংসের সরবরাহ ১২ শতাংশ কমার আশঙ্কা রয়েছে। ইতিমধ্যে চীনে গরুর মাংসের দাম বাড়ছে।

যুক্তরাষ্ট্রে খরার কারণে চারণভূমি কমে যাওয়া এবং পশুখাদ্যের ব্যয় বৃদ্ধি খামারিদের চাপে ফেলেছে। অন্যদিকে, ব্রাজিলে গরুর মাংসের উৎপাদন বাড়ানোর পরিবর্তে ভবিষ্যতে গবাদিপশুর সংখ্যা পুনর্গঠনের জন্য প্রজননক্ষম গাভি ধরে রাখছেন অনেক খামারি। তবে এতে উৎপাদন বাড়তে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে।

ইউরোপেও গরুর মাংসের উৎপাদন কমার পূর্বাভাস রয়েছে। বিপরীতে, তুলনামূলক কম খরচ ও স্বল্প উৎপাদনচক্রের কারণে মুরগির মাংসের উৎপাদন বাড়তে পারে।

তবে মুরগির মাংসের বাজারও ঝুঁকিমুক্ত নয়। ভারতে সয়া মিলের দাম এক মাসে ৪১ শতাংশ বেড়ে প্রতি টন ৬৬ হাজার রুপিতে পৌঁছায়। এতে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় দেশটির পোলট্রি শিল্পের একটি বড় অংশ উৎপাদন ২৫ শতাংশ কমানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করে।

বিশ্লেষকদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন, পশুখাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি, শ্রমিক সংকট ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিধিনিষেধ একসঙ্গে মাংস উৎপাদনকে চাপে ফেলছে। আর গবাদিপশু পালনে দীর্ঘ সময় লাগায় চাহিদা বাড়লেও দ্রুত উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না।

ফলে আগামী দিনে মাংসের দাম ও সরবরাহের ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে সাধারণ মানুষের খাদ্যাভ্যাস ও দৈনন্দিন ব্যয়ে।

সূত্র: আল জাজিরা