কৃষি খবর ডেস্ক: বাড়ির উঠোন কিংবা ছায়াঘেরা অব্যবহৃত জায়গা। একসময় যেখানে তেমন কোনো চাষাবাদ হতো না, এখন সেখানেই সারি সারি বস্তায় বেড়ে উঠছে আদা গাছ। অল্প জায়গা, সীমিত খরচ আর সহজ পরিচর্যায় আদা চাষ করে নতুন আয়ের পথ খুঁজে পেয়েছেন গ্রামীণ নারীরা।

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বিকেনগর ইউনিয়নের খানকান্দি গ্রামে নারী উদ্যোক্তা আইরিন আক্তার প্রথমে পরীক্ষামূলকভাবে ২০০টি বস্তায় আদা চাষ শুরু করেন। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা শরীয়তপুর ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের কারিগরি সহায়তায় এগিয়ে যায় তার উদ্যোগ। নিজের তৈরি জৈব সারসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ ব্যবহার করে কম খরচে চাষ করছেন তিনি।

আইরিন আক্তারের আশা, পরিবারের আদার চাহিদা পূরণের পাশাপাশি উৎপাদিত আদা বিক্রি করে সব খরচ বাদে প্রায় ৪০ হাজার টাকা আয় করতে পারবেন।

একই গ্রামের ঝর্ণা আক্তারও ২৫০টি বস্তায় আদা চাষ করেছেন। সংসারের কাজের পাশাপাশি অল্প সময় পরিচর্যা করেই ভালো ফলনের আশা করছেন তিনি। আগামী মৌসুমে আরও বড় পরিসরে চাষ করার পরিকল্পনা রয়েছে তার।

তাদের সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে বিকেনগর এলাকায় অন্তত ১০ জন নারী উদ্যোক্তা বস্তায় আদা চাষে যুক্ত হয়েছেন। প্রতিটি বস্তা থেকে প্রায় এক থেকে দেড় কেজি আদা পাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় এ পদ্ধতি গ্রামীণ পরিবারগুলোর বাড়তি আয়ের উৎস হয়ে উঠছে।

জাজিরা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মুসলিমা জাহান লিনিয়া জানান, বাড়ির অব্যবহৃত জায়গা কাজে লাগিয়ে নারীরা নিজেদের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি আদা বিক্রি করেও আয় করছেন। এতে তাদের আর্থিক স্বাবলম্বিতা বাড়ছে।

শুধু শরীয়তপুর নয়, টাঙ্গাইলের মধুপুর ও জামালপুরেও ছড়িয়ে পড়ছে বস্তায় আদা চাষ। মধুপুরের পাহাড়ি ও লালমাটির এলাকায় বাড়ির আঙিনা এবং উঁচু জমিতে এ পদ্ধতিতে চাষের সুযোগ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে জামালপুরের বন্যাপ্রবণ ও চরাঞ্চলে বস্তা উঁচু ভিটায় রাখার সুবিধা থাকায় কৃষকেরা এ পদ্ধতির প্রতি আগ্রহী হচ্ছেন।

বস্তায় আদা চাষের অন্যতম সুবিধা হলো, এর জন্য বড় জমির প্রয়োজন হয় না। বাড়ির আঙিনা, ছাদ কিংবা ছায়াযুক্ত জায়গা ব্যবহার করা যায়। পাশাপাশি পরিচর্যা সহজ হওয়ায় পরিবারের অন্যান্য কাজের সঙ্গে সমন্বয় করেও চাষ করা সম্ভব।

কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশে আদার চাহিদার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ করতে হয়। তাই স্থানীয় উৎপাদন বাড়াতে বস্তায় আদা চাষের মতো উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এতে কৃষকের আয় বাড়ার পাশাপাশি আমদানিনির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।

প্রশিক্ষণ, মানসম্মত বীজ, কারিগরি সহায়তা ও সহজ ঋণের ব্যবস্থা বাড়ানো গেলে দেশের আরও অনেক এলাকায় এ পদ্ধতি ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব। আর তাতে বাড়ির ছোট্ট উঠোনই হয়ে উঠতে পারে গ্রামীণ নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার নতুন ক্ষেত্র।