জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক: বাংলাদেশের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে নতুন প্রকল্পের অভাবে উন্নয়ন কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও গবেষকেরা। বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে বেশ কয়েকটি প্রকল্পের প্রস্তাব দেওয়া হলেও সেগুলোর অধিকাংশ অনুমোদন পায়নি। বর্তমান সরকারের সময়েও নতুন প্রকল্প অনুমোদনের অগ্রগতি সীমিত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের মতে, শুধু রাজস্ব বাজেট দিয়ে হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশুর খামার সম্প্রসারণ এবং প্রান্তিক খামারিদের সহায়তার চাহিদা পূরণ করা কঠিন। বড় প্রকল্পের অভাবে খাতটির উন্নয়ন ও নতুন উদ্যোক্তা তৈরির কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মেয়াদ শেষ গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের অধীনে বড় প্রকল্প প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্প—এলডিডিপির মেয়াদ শেষ হয়েছে। এ ছাড়া উপকূলীয় এলাকা নিয়ে একটি প্রকল্প এবং ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও সংরক্ষণ প্রকল্পও শেষ হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এলডিডিপির মাধ্যমে গবাদিপশুর উৎপাদন বাড়ানো, দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে অগ্রগতি হয়েছিল। প্রকল্পটির আওতায় গড়ে ওঠা উৎপাদক গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে খামারিরা দুধ সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণে সুবিধা পেয়েছেন।

প্রকল্পটির সাবেক পরামর্শক খান মোহাম্মদ শহিদুলের মতে, এলডিডিপি কম গরু পালন করে বেশি দুধ উৎপাদনের সুযোগ তৈরি করেছে। পাশাপাশি দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের বাজারে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছে। এসব অর্জন ধরে রাখা এখন গুরুত্বপূর্ণ।

নতুন প্রকল্পের উদ্যোগ

বর্তমান সরকার ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের উৎপাদন বৃদ্ধি ও সম্প্রসারণে একটি পাইলট প্রকল্প হাতে নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা পরিচালক নিলোফার আখতার জানিয়েছেন, চলমান প্রকল্পগুলোকে সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সমন্বয় করে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নতুন প্রকল্প গ্রহণের বিষয়েও দিকনির্দেশনা রয়েছে।

এদিকে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েকটি প্রকল্পের প্রস্তাব জমা পড়েছে। এর মধ্যে কোনো কোনোটি সবুজপাতা তালিকাতেও স্থান পেয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে নতুন প্রকল্প অনুমোদন, প্রান্তিক খামারিদের সহায়তা এবং দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।