কৃষি খবর ডেস্ক: পানিসংকট ও শুষ্ক আবহাওয়ার মধ্যেও খাদ্যশস্য ও পশুখাদ্য উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে সৌদি আরবে জোয়ার ও বাজরার পাঁচটি সম্ভাবনাময় জাত শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জোয়ারের তিনটি এবং বাজরার দুটি জাত। এসব জাত থেকে একই সঙ্গে শস্য ও পশুখাদ্যের জন্য সবুজ জৈববস্তু উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক শুষ্ক অঞ্চলের কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইসিআরআইএসএটি), জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) এবং সৌদি আরবের পরিবেশ, পানি ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের যৌথ গবেষণায় এসব জাত শনাক্ত করা হয়। ৩০ অক্টোবর জাজান থেকে প্রকাশিত গবেষণার ফলাফল কৃষিবিষয়ক সাময়িকী ফ্রন্টিয়ার্স ইন প্ল্যান্ট সায়েন্স-এ প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষণায় সৌদি আরবের জাজান ও আবহা অঞ্চলের নিম্নভূমি ও পাহাড়ি পরিবেশে জোয়ারের ২৭টি এবং বাজরার ১৫টি জাতের উৎপাদনক্ষমতা পরীক্ষা করা হয়। দেশটির শুষ্ক কৃষি পরিবেশে কোন জাতগুলো শস্য ও তাজা জৈববস্তু—দুই ধরনের উৎপাদনেই ভালো করবে, তা যাচাই করাই ছিল গবেষণার মূল উদ্দেশ্য।
গবেষণায় নির্বাচিত তিনটি জোয়ারের মধ্যে সবচেয়ে ভালো ফল দেওয়া জাতটি প্রচলিত পরীক্ষিত জাতের তুলনায় ৯ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি শস্য এবং ৪১ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি তাজা জৈববস্তু উৎপাদন করেছে। অন্যদিকে, বাজরার নির্বাচিত দুটি জাতও শস্য ও জৈববস্তু উৎপাদনে সম্ভাবনা দেখিয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে ভালো ফল দেওয়া জাতটির শস্য উৎপাদন প্রচলিত সেরা জাতের তুলনায় ৩৩ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। তবে তাজা জৈববস্তু উৎপাদন ছিল ৩৭ দশমিক ১ শতাংশ কম।
আইসিআরআইএসএটির মহাপরিচালক ড. হিমাংশু পাঠক বলেন, সৌদি আরবে অভ্যন্তরীণ খাদ্য ও পশুখাদ্যের নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি পানিস্বল্পতাপূর্ণ অঞ্চলে কৃষির সহনশীলতা বাড়াতে এ যৌথ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় পরিবেশ ও কৃষি পরিস্থিতির উপযোগী ফসল নির্বাচন এবং কৃষকদের অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরিতে বৈজ্ঞানিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এফএও সৌদি আরবের টেকসই গ্রামীণ কৃষি উন্নয়ন কর্মসূচির প্রধান কারিগরি উপদেষ্টা ড. কাকোলি ঘোষ বলেন, জোয়ার ও বাজরার বিশেষ সুবিধা হলো—এগুলো থেকে একই সঙ্গে খাদ্যশস্য ও গবাদিপশুর খাদ্য পাওয়া যায়। স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে সক্ষম জাত শনাক্ত করা দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়ানো এবং কৃষকদের সহায়তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
গবেষণাটি জাজান কৃষি গবেষণা কেন্দ্র এবং আবহার বীজ বর্ধন কেন্দ্রে চারটি স্থান ও মৌসুমভিত্তিক পরিবেশে পরিচালিত হয়। গবেষকেরা জানিয়েছেন, নির্বাচিত জাতগুলো সৌদি আরবের কৃষি পরিস্থিতির সঙ্গে কতটা উপযোগী, তা আরও যাচাই করা প্রয়োজন।
পরবর্তী ধাপে কৃষকদের ব্যবস্থাপনায় মাঠপর্যায়ে পরীক্ষামূলক চাষ, পশুখাদ্যের গুণগত মান ও পানির উৎপাদনশীলতা মূল্যায়ন, বীজের বর্ধন এবং জাতীয় পর্যায়ে জাত নিবন্ধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এসব পরীক্ষায় কৃষক ও পশুপালকেরাও অংশ নেবেন। তাঁরা ফসলের উৎপাদন, পশুখাদ্য হিসেবে এর পুষ্টিমান এবং স্থানীয় কৃষি ব্যবস্থায় ব্যবহারিক উপযোগিতা যাচাই করবেন।
গবেষণার ফলাফল সফলভাবে যাচাই করা গেলে জাজান, আসিরের পাহাড়ি অঞ্চলসহ সৌদি আরবের অন্যান্য শুষ্ক এলাকায় এসব জাতের চাষ সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরীণ শস্য ও পশুখাদ্যের সরবরাহ বাড়ানো এবং ফসল ও পশুপালননির্ভর কৃষি ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা জোরদারে ভূমিকা রাখতে পারে।
সূত্র: গ্লোবাল এগ্রিকালচার





