কৃষি খবর ডেস্ক: পৃথিবীর অন্যতম শুষ্ক অঞ্চল চিলির আতাকামা মরুভূমি। বছরের বেশিরভাগ সময় যেখানে পাথর, বালি আর ধূসর-বাদামি ভূদৃশ্য সেখানেই এখন দেখা মিলছে রঙিন ফুলের সমারোহ।
চলতি বছরের শুরুতে এল নিনোর প্রভাবে অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হয় চিলির বিভিন্ন অঞ্চলে। সেই অতিরিক্ত পানিতে দীর্ঘদিন মাটির নিচে সুপ্ত থাকা অসংখ্য বীজ ও উদ্ভিদের জৈব উপাদান সক্রিয় হয়ে ওঠে। এরপরই মরুভূমির বিস্তীর্ণ এলাকায় শুরু হয় ফুল ফোটা।
চিলির ন্যাশনাল ফরেস্ট করপোরেশনের কর্মকর্তাদের মতে, আতাকামায় এবার ২০০টিরও বেশি প্রজাতির উদ্ভিদ ও ফুল ফুটেছে। লাল, হলুদ, বেগুনি, সাদা ও কমলা বিভিন্ন রঙের ফুলে বদলে গেছে মরুভূমির চিরচেনা দৃশ্য।
এই বিরল প্রাকৃতিক ঘটনাকে স্থানীয়ভাবে বলা হচ্ছে ‘দেসিয়ার্তো ফ্লোরিদো’, যার অর্থ ‘পুষ্পশোভিত মরুভূমি’।
আতাকামা মরুভূমি প্রশান্ত মহাসাগর ও আন্দিজ পর্বতমালার মাঝখানে চিলির উত্তরাঞ্চলজুড়ে প্রায় ১ হাজার ৬০০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত। এত শুষ্ক অঞ্চলে এমন ব্যাপক ফুলের বিস্তারকে বিশেষ প্রাকৃতিক ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গবেষকদের মতে, ভারী বৃষ্টির ফলে মরুভূমির মাটিতে থাকা ‘জার্মপ্লাজম’ সক্রিয় হয়েছে। এর মধ্যে শুধু বীজ ও কন্দই নয়, বিভিন্ন অমেরুদণ্ডী প্রাণী এবং সরীসৃপের ডিমও থাকতে পারে। অনেক উদ্ভিদের বীজ বছরের পর বছর, এমনকি কয়েক দশক পর্যন্ত সুপ্ত অবস্থায় টিকে থাকতে পারে।
এবারের ফুলের বিস্তার প্রায় ১৭ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ১৯৯৭ সালের পর এটি আতাকামার অন্যতম বড় ও দৃষ্টিনন্দন ‘পুষ্পশোভিত মরুভূমি’ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রকৃতির এই বিরল দৃশ্য দেখতে ইতোমধ্যে স্থানীয় ও বিদেশি পর্যটকদের ভিড় বাড়ছে। মরুভূমির দুর্গম এলাকাগুলোতেও ছুটে যাচ্ছেন দর্শনার্থীরা। যে আতাকামাকে এতদিন শুধু শুষ্কতা আর ধূসরতার প্রতীক হিসেবে দেখা হতো, সেই মরুভূমিই এখন লাখো বুনো ফুলে পরিণত হয়েছে এক বিশাল প্রাকৃতিক ফুলের বাগানে।





