কৃষি খবর ডেস্ক: ব্রাজিলে জৈব বালাইনাশক ও অন্যান্য জৈব কৃষি উপকরণের অনুমোদন দ্রুত দেওয়ার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছে দেশটির পরিবেশ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইবামা। নতুন জৈব উপকরণ আইন কার্যকরের বিস্তারিত বিধিমালা প্রকাশের পরও অনুমোদন প্রক্রিয়া দ্রুত রাখার প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। তবে নতুন বিধিমালার কারণে অনুমোদন পেতে আরও বেশি সময় লাগতে পারে—এমন উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কৃষক সংগঠন ও জৈব উপকরণ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো।

ব্রাজিলের নতুন আইনটি ‘ল ১৫,০৭০’ নামে পরিচিত। এ আইনে কৃষকদের নিজেদের জমিতে নিজেদের ব্যবহারের জন্য জৈব কৃষি উপকরণ উৎপাদনের ক্ষেত্রে নিবন্ধন ও ফি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তবে এসব উপকরণ বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি করতে হলে আনুষ্ঠানিক নিবন্ধন বাধ্যতামূলক।

আইনটি বাস্তবে কীভাবে কার্যকর হবে, তা নির্ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় বাস্তবায়ন বিধিমালা এখনো প্রকাশিত হয়নি। বিধিমালাটি বর্তমানে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্সির নির্বাহী দপ্তর কাসা সিভিলের কাছে রয়েছে। এটি সরকারি গেজেটে প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে।

ব্রাজিলের কৃষিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম অ্যাগফিড গত ৫ অক্টোবর এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে কৃষক সংগঠন ও জৈব উপকরণ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্বেগের কথা তুলে ধরা হয়। তাদের আশঙ্কা, নতুন বিধিমালায় ইবামা এবং স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা আনভিসার ভূমিকা বাড়লে নতুন পণ্যের মূল্যায়ন ও অনুমোদনে আরও সময় লাগতে পারে। এতে আগে থেকেই দীর্ঘ অনুমোদন প্রক্রিয়া আরও জটিল হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

নতুন পণ্যের মূল্যায়নেই গুরুত্ব দেবে ইবামা

এ উদ্বেগের জবাবে ইবামার পরিবেশগত মান বিভাগের পরিচালক রোজাঙ্গেলা মুনিজ এবং রাসায়নিক পদার্থ মূল্যায়ন বিভাগের প্রধান সমন্বয়ক অ্যালান আলভেস ফেরো জানিয়েছেন, নতুন বিধিমালা কার্যকর হলে সংস্থাটি কেবল প্রকৃত অর্থে নতুন পণ্যগুলোর মূল্যায়নে গুরুত্ব দেবে।

তাঁরা আরও জানান, আনভিসার অনুসৃত পদ্ধতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিটি জীবাণুর পৃথক স্ট্রেইন বা জিনগতভাবে স্বতন্ত্র ধরন অনুযায়ী পণ্য মূল্যায়ন অব্যাহত রাখবে ইবামা।

তবে প্রস্তাবিত ‘বায়োমিনারেল’ শ্রেণি নিয়ে এখনো প্রশ্ন রয়েছে। এ শ্রেণির আওতায় উপকারী অণুজীবসমৃদ্ধ সার অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

ইবামার বক্তব্য, সার মূল্যায়ন তাদের দায়িত্বের আওতাভুক্ত নয়। তাই প্রস্তাবিত বায়োমিনারেল শ্রেণিকেও সংস্থাটি নিজেদের নিয়ন্ত্রক দায়িত্বের অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে না।

ফলে বিধিমালা প্রকাশের পর এ ধরনের পণ্যের নিয়ন্ত্রণ ও অনুমোদনের দায়িত্ব নিয়ে ইবামা এবং ব্রাজিলের কৃষি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সীমারেখা কী হবে, তা স্পষ্ট করার প্রয়োজন হতে পারে। দেশটিতে সার নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব কৃষি মন্ত্রণালয়ের।

ছয় মাসে মূল্যায়ন, আবেদনের জটও কম

ইবামার নিজস্ব পরিসংখ্যান বলছে, জৈব কৃষি উপকরণের অনুমোদন পেতে দীর্ঘ সময় লাগার যে আশঙ্কা করছেন উৎপাদক ও কৃষকেরা, পরিস্থিতি ইতিমধ্যে কিছুটা উন্নতির দিকে থাকতে পারে।

সংস্থাটির দাবি, জৈব উপকরণের আবেদনপত্র মূল্যায়নে তাদের গড়ে প্রায় ছয় মাস সময় লাগে। অথচ আইন অনুযায়ী এ কাজের জন্য এক বছর পর্যন্ত সময় নির্ধারিত রয়েছে। ইবামা আরও জানিয়েছে, বর্তমানে তাদের কাছে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা আবেদনের সংখ্যা প্রায় নেই বললেই চলে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইবামা ১৬৭টি জৈব কৃষি উপকরণসংক্রান্ত আবেদন বিশ্লেষণ করেছে। ২০২১ সালে এ সংখ্যা ছিল ৯৬। অর্থাৎ চার বছরে মূল্যায়ন করা আবেদনের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৭৪ শতাংশ।

সংস্থাটির কর্মকর্তারা বলছেন, আবেদনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও মূল্যায়ন কার্যক্রমের সক্ষমতা বজায় রয়েছে। তাঁদের মতে, এ পরিসংখ্যান প্রমাণ করে যে চাহিদা বাড়ার সঙ্গে তাল মিলিয়ে অনুমোদনব্যবস্থা পরিচালিত হচ্ছে।

রোজাঙ্গেলা মুনিজ আরও জানান, ব্রাজিলে জৈব কৃষি উপকরণের নিবন্ধনের জন্য আবেদনপত্র তৈরির ব্যয় যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপের তুলনায় প্রায় ৩০ গুণ কম। তাঁর মতে, তুলনামূলক কম ব্যয় নতুন জৈব পণ্য বাজারজাত করার জন্য ব্রাজিলকে আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত করতে পারে।

সব মিলিয়ে, ব্রাজিলে জৈব কৃষি উপকরণের অনুমোদনব্যবস্থা দ্রুত রাখার আশ্বাস দিয়েছে ইবামা। তবে নতুন বিধিমালায় বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থার দায়িত্ব কীভাবে নির্ধারিত হবে এবং বায়োমিনারেলের মতো নতুন শ্রেণির পণ্য কীভাবে মূল্যায়িত হবে, তা স্পষ্ট হওয়ার পরই আইনটির বাস্তব প্রভাব আরও ভালোভাবে বোঝা যাবে।