কৃষি খবর ডেস্ক: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবট ও ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারে বদলে যাচ্ছে প্রচলিত কৃষি ব্যবস্থা। গবাদিপশুর স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ থেকে শুরু করে দুধ উৎপাদন ও খামারের হিসাব ব্যবস্থাপনাসহ সব ক্ষেত্রেই বাড়ছে প্রযুক্তির ব্যবহার। এতে সময় ও শ্রম সাশ্রয়ের পাশাপাশি উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

যুক্তরাজ্যের উত্তর আয়ারল্যান্ডের বিভিন্ন খামারে দেখা যাচ্ছে প্রযুক্তিনির্ভর কৃষির এমন পরিবর্তন।

শনাক্ত হচ্ছে গরুর অসুস্থতা

কাউন্টি অ্যানট্রিমের খামারি জর্জ ম্যাকমাস্টারের খামারে বর্তমানে প্রায় ৩০০টি গরু রয়েছে। আগে গরুর স্বাস্থ্যগত সমস্যা শনাক্ত করতে তাঁকে নিজের অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণের ওপর নির্ভর করতে হতো। এখন খামারে ব্যবহৃত এআই ক্যামেরা প্রতিটি গরুকে আলাদাভাবে শনাক্ত করে এবং তাদের চলাফেরার ভিডিও বিশ্লেষণ করে। এতে অনেক ক্ষেত্রে অসুস্থতা বা খোঁড়ানোর লক্ষণ আগেই ধরা পড়ে।

ম্যাকমাস্টারের ছেলে জ্যাকের মতে, প্রযুক্তির সাহায্যে এমন কিছু গরুর সমস্যাও শনাক্ত হচ্ছে, যা প্রতিদিন সরাসরি দেখেও আগে বোঝা সম্ভব হতো না। ফলে সময়মতো চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে এবং গরুর স্বাস্থ্য ভালো রাখার পাশাপাশি দুধ উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

রোবটের সাহায্যে দুধ দোহন

কাউন্টি টাইরোনের খামারি ক্যালেব হাওয়ার্ড তাঁর ৯০টি জার্সি গরুর খামারে স্বয়ংক্রিয় দুধ দোহনযন্ত্র ব্যবহার করছেন। নির্দিষ্ট সময়ে গরুগুলোকে দোহনের স্থানে নিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে তারা নিজেরাই যন্ত্রের কাছে যায়।

তবে এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহারে ভালো ইন্টারনেট সংযোগ গুরুত্বপূর্ণ। হাওয়ার্ড জানান, উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড চালু হওয়ার পর তাঁর খামারের কার্যক্রম সহজ হয়েছে। পাশাপাশি ইলেকট্রনিক পেমেন্ট সুবিধাসহ একটি ফার্ম শপ পরিচালনা করাও সম্ভব হয়েছে।

উত্তর আয়ারল্যান্ডের গ্রামীণ এলাকায় উচ্চগতির ইন্টারনেট পৌঁছে দিতে ‘প্রজেক্ট স্ট্র্যাটাম’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে জানিয়েছে প্রকল্পটির বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান ফাইবারাস।

‘গরুর ফেসবুক’ অ্যাপে সব তথ্য

কাউন্টি অ্যানট্রিমের আরেক খামারি রবার্ট স্মাইথ তাঁর প্রায় ১০০টি দুধেল গরুর ব্যবস্থাপনায় চার বছর ধরে ‘ফার্মড্রাইভ’ অ্যাপ ব্যবহার করছেন। এতে গরুর স্বাস্থ্য, ওষুধ, পশুখাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য এক জায়গায় সংরক্ষণ করা যায়। পরিদর্শনের সময় প্রয়োজনীয় প্রতিবেদনও সহজে তৈরি করা সম্ভব হয়।

অ্যাপটির নির্মাতা গ্যারেথ ম্যাকডোনাল্ড একে ‘গরুর ফেসবুক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। প্রতিটি গরুর জন্য আলাদা প্রোফাইল তৈরি করে সেখানে ছবি ও প্রয়োজনীয় তথ্য রাখা যায়।

ম্যাকডোনাল্ডের মতে, এআইয়ের কাজ কৃষকের হয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া নয়; বরং সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে তাঁদের দ্রুত ও কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করা।

কৃষিতে প্রযুক্তির ভূমিকা

আলস্টার ফার্মার্স ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ইয়ান মার্শালের মতে, কৃষিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল প্রযুক্তি বিপ্লবী পরিবর্তন আনতে পারে। এসব প্রযুক্তির মাধ্যমে উৎপাদন খরচ কমানো, উৎপাদন বাড়ানো এবং পরিবেশগত প্রভাব নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার কৃষিকে আরও দক্ষ ও তথ্যনির্ভর করে তুলছে। তবে প্রযুক্তি যত উন্নতই হোক, কৃষকের অভিজ্ঞতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের গুরুত্ব থেকেই যাচ্ছে। সঠিক তথ্য ও আধুনিক যন্ত্রের সমন্বয়ই ভবিষ্যতের টেকসই কৃষি ব্যবস্থার অন্যতম ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে।