কৃষি খবর ডেস্ক: ইউটিউব দেখে আগ্রহ, এরপর কৃষি বিভাগের পরামর্শ শেষ পর্যন্ত ভিয়েতনাম জাতের কালো ধান চাষ করে সফলতার মুখ দেখছেন দিনাজপুরের বোচাগঞ্জের যুবক মো. রকিবুল হক।

২৮ বছর বয়সী রকিবুলের বাড়ি বোচাগঞ্জ উপজেলার দিঘনবাড়ী গ্রামে। নতুন কিছু করার আগ্রহ থেকেই শুরু করেন কালো ধানের পরীক্ষামূলক চাষ।

ইউটিউবে কালো ধানের ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র দেখে এ ধান চাষে আগ্রহী হন তিনি। পরে ইউটিউবের মাধ্যমে ঢাকা খামারবাড়ি ও বিভিন্ন কৃষি দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে চাষাবাদ সম্পর্কে পরামর্শ নেন। গাজীপুর ও রাজশাহীর দুটি কৃষি ফার্মের কৃষিবিদরাও তাকে চাষের পদ্ধতি সম্পর্কে সহযোগিতা করেন।

এরপর গত জুন মাসের মাঝামাঝি গাজীপুরের একটি বীজ ভান্ডার থেকে ৫ কেজি ভিয়েতনাম জাতের কালো ধানের বীজ ৪ হাজার ৫০০ টাকায় কিনে নেন রকিবুল।

ইউটিউব থেকে পাওয়া পদ্ধতি অনুসরণ করে বীজতলা তৈরি করেন তিনি। প্রায় ২০ থেকে ২২ দিনের মধ্যে চারা রোপণের উপযোগী হলে গত জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে ৩৩ শতক জমিতে কালো ধানের চারা রোপণ করেন।

নিজের বাবার জমিতে চাষ করতে চাইলেও শুরুতে পরিবারের কাছ থেকে সাড়া পাননি রকিবুল। নতুন জাতের ধান হওয়ায় তার বাবা আমিনুল হকও প্রথমে ছেলের উদ্যোগে ভরসা পাননি।

তবে দমে যাননি রকিবুল। শেষ পর্যন্ত ১৬ হাজার টাকা দিয়ে এক বছরের জন্য ৩৩ শতক জমি লিজ নিয়ে শুরু করেন কালো ধানের চাষ।

এখন সেই জমিতে দুলছে ভিয়েতনাম জাতের কালো ধানের শীষ। ধান কাটার আগেই নতুন জাতের এই ক্ষেত দেখতে ভিড় করছেন স্থানীয় মানুষ। এমনকি বীজ সংগ্রহের জন্য আগাম যোগাযোগ করছেন অনেক কৃষক।

রকিবুলের আশা, প্রথমবারের চাষে ২০ থেকে ২২ মণ ধান পাওয়া যেতে পারে। ফলন ভালো হওয়ার পাশাপাশি বাজারদর অনুকূলে থাকলে প্রায় ৩ লাখ টাকার ধান বিক্রি করার প্রত্যাশা করছেন তিনি।

রকিবুল জানান, সাধারণ ধানের মতোই কালো ধান চাষ করা যায়। এতে অতিরিক্ত সার বা পানি প্রয়োজন হয় না এবং আলাদা কোনো পরিচর্যাও করতে হয় না।

প্রথমবারের এই চাষের মাধ্যমে তিনি ফলন, পরিবারের জন্য ব্যবহার এবং বাজারে চাহিদা সবকিছু যাচাই করতে চাইছেন। ফলন ও বাজার ভালো হলে ভবিষ্যতে বড় পরিসরে কালো ধান চাষ করার পরিকল্পনা রয়েছে তার।

রকিবুলের বাবা আমিনুল হকও এখন ছেলের উদ্যোগে সন্তুষ্ট। তিনি জানান, শুরুতে ছেলের সিদ্ধান্তে ভরসা না পেলেও এখন ক্ষেত দেখে তার ধারণা বদলেছে। ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী ছেলেকে নিজের জমি দিয়ে সহযোগিতা করার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

বোচাগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নয়ন কুমার সাহার মতে, কালো ধানে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্থোসায়ানিন, ফাইবার ও আয়রনসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান রয়েছে। তিনি মনে করেন, সঠিকভাবে উৎপাদন ও বাজারজাত করা গেলে এ ধরনের ধান কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মারুফ হাসানও মনে করেন, সঠিক উৎপাদন ও বাজারজাত নিশ্চিত করা গেলে কালো ধান লাভজনক ফসল হতে পারে।

এদিকে দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আফজাল হোসেন জানিয়েছেন, তিনি রকিবুলের কালো ধানের ক্ষেত পরিদর্শন করেছেন। তার আশা, রকিবুলের সফলতা দেখে আরও তরুণ কৃষক উচ্চমূল্যের ও চাহিদাসম্পন্ন কালো ধান চাষে আগ্রহী হবেন।

ইউটিউব থেকে পাওয়া একটি ধারণা আর সেই ধারণা থেকেই ৩৩ শতক জমিতে নতুন জাতের ধানের চাষ। এখন ফলন ও বাজারের দিকে তাকিয়ে রকিবুল। তার এই পরীক্ষামূলক উদ্যোগ সফল হলে দিনাজপুরের কৃষিতে যুক্ত হতে পারে নতুন এক সম্ভাবনা।

সূত্র: বাসস