কৃষি খবর ডেস্ক: ইলিশের ভরা মৌসুমেও শরীয়তপুরের পদ্মায় মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ইলিশ। দিন-রাত নদীতে জাল ফেলেও আশানুরূপ মাছ না পাওয়ায় আয়-রোজগার কমেছে জেলেদের। একই সঙ্গে জমে উঠছে না নদীপাড়ের মৎস্যঘাটগুলোর ব্যবসাও।
শরীয়তপুরের পদ্মার বিভিন্ন ঘাট ও নদী এলাকায় দেখা গেছে, ইলিশের আশায় নদীতে ছুটে চলা প্রায় ৫ হাজার জেলে এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয়দের দাবি, গত দুই বছরে পদ্মার মাঝপথে বেশ কয়েকটি বড় ডুবোচর জেগে উঠেছে। কোথাও পলি জমে নদীর তলদেশ ভরাট হয়েছে, আবার কোথাও বদলে গেছে স্রোতের গতিপথ। ফলে তৈরি হয়েছে নতুন নতুন চ্যানেল। এর প্রভাব পড়েছে ইলিশের বিচরণ ও আহরণে।
জেলেরা বলছেন, আগে নদীর নির্দিষ্ট জায়গায় জাল ফেললেই ইলিশ পাওয়া যেত। এখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা জাল ফেলেও কাঙ্ক্ষিত মাছ মিলছে না। নদীর গভীরতা ও স্রোতের পরিবর্তনের কারণে ইলিশের চলাচলের পথও বদলে গেছে বলে মনে করছেন তারা।
নড়িয়ার সুরেশ্বর ঘাট, জাজিরার পালেরচর বাজারসহ কয়েকটি মৎস্যঘাটেও আগের মতো জেলে ও ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড় নেই। বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা এলেও পর্যাপ্ত ইলিশ না পেয়ে অনেকেই খালি হাতে ফিরছেন।
মাওয়া ঘাটের জেলে রফিক মাঝি ও আয়নাল সরদার জানান, প্রায় তিন দশক ধরে তারা পদ্মায় মাছ ধরছেন। আগে কয়েক ঘণ্টা জাল ফেললেই বড় ইলিশসহ ভালো পরিমাণ মাছ পাওয়া যেত। এখন সারাদিন নদীতে থেকেও তুলনামূলক কম মাছ মিলছে। এতে আয় কমে যাওয়ায় সংসার চালাতে বিকল্প কাজের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
মাছের সংকটের প্রভাব পড়েছে আড়ত ব্যবসায়ও। কাঁচিকাটা ঘাটের আড়ত মালিক দেওয়ান ফকির জানান, জেলেরা পর্যাপ্ত মাছ না পাওয়ায় পাইকারদের আনাগোনাও কমেছে। ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
জেলা মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, শরীয়তপুরে পদ্মা ও মেঘনা নদী মিলিয়ে প্রায় ৭১ কিলোমিটার নদীপথ রয়েছে। এর মধ্যে নড়িয়া ও ভেদরগঞ্জের মোট ২০ কিলোমিটার নদী এলাকা ইলিশের অভয়াশ্রম হিসেবে ঘোষিত।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব বলেন, নদীর গভীরতা ও প্রবাহের পরিবর্তনের কারণে শরীয়তপুরের পদ্মায় ইলিশের বিচরণে প্রভাব পড়ছে। ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা এবং পরিকল্পিত ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে চর ও পলি অপসারণ জরুরি।





