কৃষি খবর ডেস্ক: শীতকাল এখনো আসেনি, তবে মুন্সীগঞ্জে শুরু হয়ে গেছে আগাম শীতকালীন সবজি চারা উৎপাদনের ব্যস্ততা। বীজতলায় চারা উৎপাদন, পরিচর্যা ও বিক্রিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা।

আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং ফলন ভালো হওয়ায় আগাম সবজি চারার ন্যায্য দাম পাচ্ছেন কৃষকরা। লাভজনক হওয়ায় মুন্সীগঞ্জে ইতোমধ্যে এ ব্যবসায় যুক্ত হয়েছেন প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন উদ্যোক্তা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে মুন্সীগঞ্জে মোট ১ হাজার ১৯১ হেক্টর জমিতে আগাম শীতকালীন সবজির চারা উৎপাদন হচ্ছে।

এর মধ্যে মুন্সীগঞ্জ সদরে ৩০০ হেক্টর, টঙ্গিবাড়ীতে ৩৭ হেক্টর, শ্রীনগরে ১০৮ হেক্টর, সিরাজদিখানে ২৮২ হেক্টর, লৌহজংয়ে ২৬০ হেক্টর এবং গজারিয়ায় ২০৪ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়েছে।

এসব বীজতলায় লাউ, ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, শিম ও বেগুনসহ বিভিন্ন শীতকালীন সবজির চারা উৎপাদন করছেন কৃষকরা।

পঞ্চসার ইউনিয়নের ভট্টাচার্যভাগের কৃষক আহম্মদ শরীফ লিটন এ বছর প্রায় এক একর জমিতে সবজি চারা উৎপাদনের জন্য বীজতলা তৈরি করেছেন।

তিনি জানান, চারা উৎপাদনে সময় লাগে মাত্র ২০ থেকে ২৫ দিন। ফলে একই জমিতে এক মৌসুমে দুইবার পর্যন্ত চারা উৎপাদন করা সম্ভব।

মুন্সীগঞ্জের এসব চারার চাহিদা রয়েছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়। বিশেষ করে সাভার, কেরানীগঞ্জ, শরীয়তপুর, মাদারীপুর ও নারায়ণগঞ্জসহ ঢাকার আশপাশের বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা এখান থেকে চারা কিনে নিয়ে যান।

কৃষকদের দাবি, উর্বর মাটি, দেশীয় বীজ, উন্নত পরিচর্যা ও দক্ষ শ্রমিকের কারণে মুন্সীগঞ্জের চারার মান ভালো। তাই দিন দিন বাড়ছে এর চাহিদা।

বজ্রযোগিনী ইউনিয়নের বীজতলা উৎপাদনকারী কৃষক মো. নওয়াব শিকদার এবার প্রায় ৭০ শতাংশ জমিতে বীজতলা তৈরি করেছেন। তিনি জানান, প্রতি মৌসুমে দুই মাসে প্রায় ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকার চারা উৎপাদন করেন।

বংশপরম্পরায় এই বীজতলা তৈরির সঙ্গে যুক্ত নওয়াব শিকদার জানান, আগে মূলত দেশীয় জাতের চারা উৎপাদন করা হলেও বর্তমানে দেশীয় জাতের পাশাপাশি কিছু বিদেশি বীজও ব্যবহার করা হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. হাবিবুর রহমান জানান, মুন্সীগঞ্জে প্রতি বিঘা জমি থেকে চারা বিক্রি করে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় হয়।

তার মতে, মুন্সীগঞ্জের জমি উঁচু ও উর্বর হওয়ায় আগাম বীজতলা তৈরি করা সম্ভব হয়। পাশাপাশি স্থানীয় শ্রমিকরা এ কাজে প্রশিক্ষিত এবং কৃষকরাও অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে বীজতলা তৈরি করেন।

অধিকাংশ কৃষক জমিতে জৈব সার ব্যবহার করায় চারার গুণগত মানও ভালো হয় বলে জানান তিনি।

লাভজনক হওয়ায় মুন্সীগঞ্জে এরই মধ্যে ২৫ থেকে ৩০ জন উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর তাদের কারিগরি সহায়তাও দিচ্ছে।

এদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগে যাতে বীজতলার ক্ষতি না হয়, সেজন্য ভবিষ্যতে পলিমেট হাউস তৈরি করে দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে কৃষি বিভাগের।

শীতের সবজির মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই মুন্সীগঞ্জের বীজতলায় তৈরি হচ্ছে হাজারো চারা। কৃষকের হাতে এই চারা যেমন তুলে দিচ্ছে বাড়তি আয়ের সুযোগ, তেমনি দেশের বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের আগাম সবজি উৎপাদনের প্রস্তুতিকেও সহজ করে দিচ্ছে।

সূত্র: বাসস