জেলা প্রতিনিধি, বগুড়া: বগুড়া সদরের ফাঁপোড় ইউনিয়নের কৈচড় ব্লকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রদর্শনী প্লটে ব্রি-১০৩ ধান কর্তন ও শস্য আহরণের উদ্বোধন করেছেন জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান। আজ মঙ্গলবার সকালে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিআরআরআই) উদ্ভাবিত এই জাতের পরীক্ষামূলক উৎপাদনের ফল তুলে ধরে কৃষকদের এ ধান চাষে উদ্বুদ্ধ করতেই এ আয়োজন।
এরপর রবি মৌসুমের করণীয় নিয়ে কৃষক, উদ্যোক্তা ও স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিক হয়। খামারবাড়ির উপপরিচালক সোহেল মো. শামসুদ্দীন ফিরোজের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক। বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল ওয়াজেদ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইছমত আরা, মাহফুজুল আলম ও লিড ফার্মার আব্দুস সালাম।
জেলা প্রশাসক বলেন, কৃষকদের উৎপাদনমুখী হতে হবে এবং নিরাপদ খাদ্যের জন্য সচেতনভাবে কীটনাশক ও সার ব্যবহার করতে হবে। তিনি নারীদের উদ্যোক্তা ও কৃষিতে সম্পৃক্ত হওয়ার তাগিদ দেন। ফ্যামিলি কার্ডের সহায়তা জমিয়ে হাঁস—মুরগি পালন ও বাড়ির পাশের পতিত জমিতে চাষাবাদে উদ্বুদ্ধ হতেও বলেন।
এসময় খামারবাড়ির উপপরিচালক সোহেল মো. শামসুদ্দীন ফিরোজ বলেন, এই উচ্চফলনশীল জাতে ধান প্রতি বিঘায় কাঁচা অবস্থায় ২০-২২ মণ ধান মিলেছে। শুকানোর পর কমপক্ষে ১৮ মণ হবে। চাল চিকন, সুস্বাদু ও রপ্তানিযোগ্য। ফলাফল পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যের সঙ্গে যাচাই করে কৃষি অধিদপ্তর জাতটি বাজারে উন্মুক্ত করবে এবং প্রান্তিক চাষিদের আগাম ফসল হিসেবে চাষে উদ্বুদ্ধ করবে।
লিড ফার্মার আব্দুস সালাম জানান, গড় ফলন বিঘায় ১৮-২০ মণ। ওই ব্লকে কৃষকেরা ১৫০ বিঘায় এ জাতের ধান আবাদ করেছেন। আগাম জাত হওয়ায় একই জমিতে বাড়তি ফসল তোলা যাবে। পর্যাপ্ত খড় মিলবে, চিকন চাল ভালো দামে বিক্রি হবে, আর সঠিক আর্দ্রতায় বীজ করলে বাড়তি আয়ও হবে।
সভায় চাষি, প্রশিক্ষণার্থী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সদর কৃষি অফিসের ৩৪ জন কর্মকর্তা অংশ নেন বলে জানান উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম।



