কৃষি খবর ডেস্ক: উত্তরাঞ্চলের উঁচু জমিতে শুরু হয়েছে আগাম জাতের আমন ধান কাটার মৌসুম। ধান কাটার পরপরই জমি প্রস্তুত করছেন কৃষকেরা, লক্ষ্য আগাম শীতকালীন শাক-সবজি ও অন্যান্য ফসল আবাদ।
সাধারণত উত্তরাঞ্চলে আমন ধান কাটার উৎসব শুরু হয় নভেম্বরের দিকে। তবে আগাম জাতের ধান প্রায় এক মাস আগেই ঘরে তুলতে শুরু করেছেন কৃষকেরা। জুনের মাঝামাঝি সময়ে রোপণ করা এই ধান কাটার পর একই জমিতে ফুলকপি, গাজর, বেগুন, ধনিয়াপাতা, ভুট্টা ও আলুসহ বিভিন্ন শীতকালীন ফসল আবাদ করা হয়।
রংপুরের মহিপুর তিস্তার চর এলাকার কৃষক শফিয়ার রহমান পাঁচ বিঘা জমিতে আগাম আমন চাষ করেছেন। এর মধ্যে তিন বিঘা থেকে তিনি ৪৭ মণ ধান পেয়েছেন। বাকি দুই বিঘার ধানও কয়েক দিনের মধ্যে কাটার কথা জানিয়েছেন তিনি।
কৃষকদের হিসাবে, আগাম আমনে বিঘাপ্রতি ফলন সাধারণ আমনের তুলনায় দুই থেকে তিন মণ কম হতে পারে। তবে ধান কাটার পর দ্রুত শীতকালীন ফসল আবাদ করতে পারায় একই জমি থেকে বছরে একাধিক ফসল ঘরে তোলার সুযোগ তৈরি হয়।
তবে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় কৃষকদের দুশ্চিন্তাও রয়েছে। সার, ডিজেল, কীটনাশক ও শ্রমিকের খরচ বাড়ায় গত বছরের তুলনায় এবার বিঘাপ্রতি আমন চাষে প্রায় ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা বেশি খরচ হয়েছে।
লালমনিরহাটের কৃষক আদিলুর রহমান ছয় বিঘা জমিতে আগাম আমন চাষ করে এবার ৮৭ হাজার টাকা খরচ করেছেন। একই জমিতে গত বছর তার খরচ ছিল ৭১ হাজার টাকা। ফলন ভালো হলেও বাড়তি উৎপাদন খরচে লাভের হিসাব নিয়ে কিছুটা হতাশ তিনি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে রংপুর অঞ্চলের কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, রংপুর, গাইবান্ধা ও নীলফামারী—এই পাঁচ জেলায় মোট ৬ লাখ ২১ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে আগাম জাতের আমন চাষ হয়েছে প্রায় ৩৩ হাজার হেক্টর জমিতে। চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২০ লাখ ১ হাজার ৩৯১ টন।
রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক আবু বকর সাইফুল ইসলাম জানান, উঁচু জমিতে আগাম আমন ধান কাটা শুরু হয়েছে এবং অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত এ ধান কাটার কাজ চলবে। বন্যার প্রভাব কম থাকায় এবার আগাম আমনের উৎপাদন আশানুরূপ হয়েছে বলেও জানান তিনি।
আগাম আমন ঘরে তোলার পর শীতকালীন ফসলের আবাদ শুরু হওয়ায় ব্যস্ত সময় পার করছেন উত্তরের কৃষকেরা। ধান কাটার আনন্দের পাশাপাশি এখন তাদের চোখ নতুন ফসলের দিকে।






