কৃষি কবর ডেস্ক: যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে সিলেটে উৎপাদিত গোয়ালগাদ্দা শিম ও জারা লেবু। এর বাইরে নাগামরিচও রপ্তানি করছেন কৃষকরা। হাওরের দেশি মাছও যাচ্ছে বিভিন্ন দেশে। এ অঞ্চলে উৎপাদিত আরও অনেক কৃষিপণ্য রপ্তানির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ সম্ভাবনার পেছনে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে কিছু সমস্যা।
সংরক্ষণ ও প্যাকেজিংয়ের পর্যাপ্ত সুবিধা নেই সিলেটে। এ কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে এসব পণ্যের ব্যাপক চাহিদা থাকা সত্ত্বেও রপ্তানির সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। এ পরিস্থিতি বদলাতে প্রায় ৩৮৭ কোটি টাকা ব্যয়ে সিলেটে আধুনিক প্যাকিং হাউজ ও কোল্ডস্টোরেজ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশে বড়শলা এলাকায় প্রায় পাঁচ একর জমিতে এই অবকাঠামো নির্মাণের প্রাথমিক প্রস্তাব করা হয়েছে।
কৃষি বিপণন অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত প্রকল্পে থাকবে এক হাজার মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার কোল্ড স্টোরেজ, প্যাকিং ও গ্রেডিংয়ের সুবিধা, মান যাচাইয়ের জন্য ১০টি পরীক্ষাগার, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, সম্মেলনকক্ষ এবং বিদেশি ক্রেতাদের থাকার জন্য অতিথি ভবন। এছাড়া পণ্য পরিবহন, লোডিং-আনলোডিং, মান নিয়ন্ত্রণ ও সনদ প্রদানের ব্যবস্থাও রাখা হবে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ঢাকা ও সিলেটের বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা সরেজমিনে প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শন করে কৃষক, ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। তাদের পরামর্শের ভিত্তিতে আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্যাকিং হাউজ নির্মাণের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে। চলতি সপ্তাহে বিশেষজ্ঞ দলটির সিলেট সফরের সম্ভাবনা রয়েছে।
সিলেট থেকে ইউরোপ, আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে পণ্য রপ্তানির অপার সম্ভাবনা দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে এ অঞ্চলে উৎপাদিত সাইট্রাস জাতীয় ফল, সবজি ও বিভিন্ন ধরনের কৃষিপণ্যের চাহিদা রয়েছে বিভিন্ন দেশে। রপ্তানির এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয় অত্যাধুনিক কার্গো কমপ্লেক্স।
সিলেটে প্যাকিং হাউজ কাম কোল্ডস্টোরেজ নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, নারায়ণগঞ্জের শ্যামপুরের আদলে সিলেটেও একটি ‘প্যাকিং হাউজ’ স্থাপন করা গেলে এ অঞ্চলে উৎপাদিত শিম, নাগা মরিচ, ফরাস ও শিমের বিচি, কচুমুখী ও লতি, জারা লেবু এবং সাতকরা ইউরোপ, আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা সম্ভব যাবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সিলেট থেকে প্রতিনিয়তই প্রচুর পরিমাণে সবজি বিদেশে যাচ্ছে। হাওরের সুস্বাদু মাছও যাচ্ছে দেশের গণ্ডির বাইরে। এ অবস্থায় কৃষিপণ্য সংরক্ষণ, প্যাকেজিং ও রপ্তানির অবকাঠামো গড়ে উঠলে কৃষক ও কৃষি উদ্যোক্তারা উপকৃত হবেন। একই সঙ্গে কৃষিপণ্যের অপচয় কমবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে সিলেটের কৃষিপণ্যের প্রবেশের সুযোগ বাড়বে। বিশেষ করে সিলেটের গোয়ালগাদ্দা শিম, সাতকড়া, জাড়া লেবু, নাগা মরিচ ও কচুর লতিসহ নানা কৃষি পণ্যের রপ্তানি বাড়বে।
সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘এরকম একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য জায়গা বরাদ্দ দিতে কোনো সমস্যা নাই। আপাতত সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশে বড়শলায় খাসজমিতে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। পরবর্তীতে প্রয়োজনে আরও জমি বরাদ্দ দেওয়া হবে।’






