কৃষি খবর ডেস্ক: আদা আমদানিতে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করছে বাংলাদেশ। এই নির্ভরতা কমাতে আগামী তিন বছরের মধ্যে আদা উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে উন্নত জাতের আবাদ, মানসম্মত বীজ সরবরাহ এবং বস্তায় আদা চাষ সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে আদার চাহিদা প্রায় ৩ লাখ ৭৫ হাজার টন। এর বিপরীতে উৎপাদন চাহিদার তুলনায় কম হওয়ায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আদা বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে চীন, ভারত, মিয়ানমার, ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ড থেকে আদা আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ২৫৬ কোটি ৮১ লাখ টাকা।

আমদানির তালিকায় সবচেয়ে বেশি আদা এসেছে ভারত থেকে। দেশটি থেকে ৬১ হাজার ৪২৮ টন আদা আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ৩৮৩ কোটি ৭১ লাখ টাকা। অন্যদিকে চীন থেকে ৪৩ হাজার ৩৮ টন আদা আমদানিতে খরচ হয়েছে ৫৫৯ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। মিয়ানমার থেকেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আদা আমদানি করেছে বাংলাদেশ।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, দেশের মাটি ও আবহাওয়া আদা চাষের উপযোগী হলেও উন্নত জাতের অভাব, রোগবালাই, ছত্রাকের সংক্রমণ এবং প্রচলিত চাষাবাদ পদ্ধতির কারণে কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন পাওয়া যাচ্ছে না। এসব সমস্যা কাটিয়ে উঠতে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং উন্নত জাতের আবাদ বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এ ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বস্তায় আদা চাষে। বাড়ির আঙিনা, পুকুরপাড় কিংবা অল্প জায়গা ব্যবহার করেই এ পদ্ধতিতে আদা উৎপাদন করা সম্ভব। বাংলাদেশ মসলা গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এম মাসুদ আলম জানান, মাত্র ৫০ গ্রাম আদার বীজ রোপণ করে একটি বস্তা থেকে প্রায় ১ থেকে দেড় কেজি আদা পাওয়া যেতে পারে।

কৃষকদের মধ্যে বারি-২ ও বারি-৩ জাতের আদা চাষে আগ্রহ বাড়াতেও কাজ করছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো। গবেষকদের মতে, উন্নত জাত ও চাষাবাদ পদ্ধতি অনুসরণ করলে প্রতি হেক্টরে উৎপাদন আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার ছোটকুয়া গ্রামের কৃষক সোহেল প্রধান এবার বাড়ির পুকুরপাড়ের আশপাশে ১ হাজার ৮০০টি বস্তায় আদা চাষ করেছেন। তিনি এ চাষ থেকে ভালো মুনাফার আশা করছেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, বস্তায় আদা চাষের প্রসার, উন্নত বীজের সহজলভ্যতা এবং কৃষকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে স্থানীয় উৎপাদন বাড়বে। এতে একদিকে কৃষকের আয়ের সুযোগ তৈরি হবে, অন্যদিকে আদা আমদানিতে বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয় কমানো সম্ভব হবে।