কৃষি খবর ডেস্ক: জলবায়ুর বিপর্যয়, অতিরিক্ত পশুচারণ এবং অতিরিক্ত মাত্রায় সার ও কীটনাশকের ব্যবহারের কারণে দূষণ, জীববৈচিত্র্যের ক্ষয় ও জলবায়ু বিশৃঙ্খলাজনিত বৈশ্বিক সংকট আরও তীব্র হচ্ছে। এর ফলে ১০ লাখের বেশি প্রজাতি বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে। এমন অবস্থায় পৃথিবী ক্রমেই মানুষের বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ার শঙ্কা বাড়ছে।
আগামী ১৯-৩০ অক্টোবর পর্যন্ত আর্মেনিয়ার ইয়ারাভেনে কপ-১৭ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। কপ-১৭ সম্মেলনকে সামনে রেখে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনি গুতেরেস।
গুতেরেস বলেন, চার বছর আগে সম্মত হওয়া কুনমিং-মন্ট্রিল বৈশ্বিক জীববৈচিত্র্য কাঠামো বিশ্বজুড়ে নানা উদ্যোগকে উৎসাহিত করেছে। প্রায় ৯০ শতাংশ সদস্যদেশ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। অর্ধেকের বেশি দেশ এ বিষয়ে জাতীয় কর্মপরিকল্পনাও তৈরি করেছে। ২০২২ সালের পর থেকে অতিরিক্ত ১৩ লাখ বর্গকিলোমিটার স্থলভাগ এবং ৬০ লাখ বর্গকিলোমিটার সমুদ্র আনুষ্ঠানিকভাবে সংরক্ষিত এলাকার আওতায় এসেছে।
তবে, অগ্রগতি সব জায়গায় সমান নয় এবং তা অত্যন্ত ধীরগতির বলে মন্তব্য করেছেন গুতেরেস। দেশগুলো তাদের বর্তমান অঙ্গীকার পুরোপুরি বাস্তবায়ন করলেও ২০৩০ সালের মধ্যে পৃথিবীর মাত্র ২৬ শতাংশ স্থলজ বাস্তুতন্ত্র এবং ১২ শতাংশ সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষিত হবে। অথচ বৈশ্বিক কাঠামোর লক্ষ্য হলো ওই সময়ের মধ্যে বিশ্বের স্থলভাগ ও সমুদ্রের অন্তত ৩০ শতাংশ সংরক্ষণ করা।
তিনি আরও বলেন, অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত জাতীয় লক্ষ্যমাত্রায় বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। বিশেষ করে প্রকৃতির ক্ষতি করে এমন কর্মকাণ্ডে প্রণোদনা কমানোর বিষয়ে দেশগুলোর অঙ্গীকার যথেষ্ট নয়। অর্থায়ন, কারিগরি সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রেও ঘাটতি রয়েছে। জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে যে ২০০ বিলিয়ন ডলার অর্থায়নের বিষয়ে সম্মত হওয়া হয়েছিল, বর্তমানে এর অর্ধেকেরও কম অর্থায়ন রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
জাতিসংঘ মহাসচিবের প্রথম আহ্বান ছিল সরকারি নেতৃত্ব জোরদার করা। তিনি দেশগুলোকে ২০৩০ সালের মধ্যে স্থলভাগ ও সমুদ্রের ৩০ শতাংশ সংরক্ষণের লক্ষ্য অর্জনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে প্রকৃতি ধ্বংস করে এমন নীতি থেকে সরে এসে প্রকৃতি টিকিয়ে রাখে-এমন চর্চা চালুর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। এ ক্ষেত্রে শূন্য বর্জ্য ও বৃত্তাকার অর্থনীতি, টেকসই কৃষি, পুনরুজ্জীবনমূলক কৃষিপদ্ধতি, উন্নত নজরদারি, স্বচ্ছতা এবং বিদ্যমান আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করার কথা বলেন গুতেরেস।
তিনি জানান, ২০২৩ সালে প্রকৃতির ক্ষতি করে এমন শিল্প ও কর্মকাণ্ডে ৭ লাখ ৩০ হাজার কোটি ডলার বা ৭ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলার প্রবাহিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দূষণকারী ভারী শিল্প, পরিবেশবিধ্বংসী কৃষিব্যবসা এবং জীবাশ্ম জ্বালানি খাত।
গুতেরেস বলেন, ‘আমি সব দেশের সরকারকে এসব খাতে ভর্তুকি ও আর্থিক সুবিধা দেওয়া চিরতরে বন্ধ করার এবং সেই অর্থ মানুষ ও পৃথিবীর কল্যাণে ব্যবহারের আহ্বান জানাচ্ছি।’
জাতিসংঘ মহাসচিবের শেষ আহ্বান ছিল সমাজের সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। বিশেষ করে তরুণ, নাগরিক সমাজ, নারী, আদিবাসী জনগোষ্ঠী ও স্থানীয় সম্প্রদায়কে জীববৈচিত্র্য রক্ষার উদ্যোগে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে যে জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন, আসুন আমরা তা গ্রহণ করি-আমাদের সন্তানদের জন্য, আমাদের ভবিষ্যতের জন্য এবং পৃথিবীর সব প্রাণের জন্য।’






