যুক্তরাষ্ট্র থেকে মুখ ফিরিয়ে নিল চীনের সয়াবিন ক্রেতারা
কৃষি খবর ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে কৃষিপণ্যে শুল্ক কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও মার্কিন সয়াবিন কেনায় চীনের আগ্রহ কমে গেছে। প্রায় চার বছরের মধ্যে চীনে মার্কিন সয়াবিনের চাহিদা বর্তমানে সবচেয়ে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। দুই দেশ চলতি সপ্তাহে কয়েক হাজার কোটি ডলারের অন্যান্য কৃষিপণ্যের ওপর শুল্ক কমাতে সম্মত হলেও সেই তালিকায় সয়াবিন রাখা হয়নি। প্রাথমিক বাণিজ্য তথ্য বলছে, আপাতত মার্কিন সয়াবিন কেনা বাড়ানোরও তেমন আগ্রহ নেই চীনা ক্রেতাদের।
২৮ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের কর্মকর্তাদের বৈঠকের পর দুই দেশ প্রায় ৬০ বিলিয়ন ডলারের পণ্যের ওপর শুল্ক কমানোর বিষয়ে একমত হয়। এর আওতায় মাংস, দুগ্ধজাত পণ্য, ভুট্টা, গম, জোয়ার ও ভেজিটেবল অয়েলের মতো কৃষিপণ্য রয়েছে। তবে সয়াবিন এই চুক্তির বাইরে রয়েছে। ফলে আগের শুল্কের পাশাপাশি চীনে মার্কিন সয়াবিনের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক বহাল থাকছে।
সয়াবিন চুক্তির বাইরে থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের কৃষকদের হতাশা বেড়েছে। কারণ এর আগে মে মাসে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সমঝোতার পর চীনের রাষ্ট্রীয় আমদানিকারকরা প্রায় ১ কোটি ৩৭ লাখ মেট্রিক টন মার্কিন সয়াবিন কেনার চুক্তি করেছিল। এতে দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্কের উন্নতি নিয়ে আশাবাদ তৈরি হয়েছিল।
কিন্তু সেই আশাবাদ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের প্রথম তিন সপ্তাহে চীনা ক্রেতারা মাত্র প্রায় ৫০টি চালান মার্কিন সয়াবিন বুক করেছেন। গত চার বছরের মধ্যে সেপ্টেম্বরের এই সময়ের জন্য এটি সর্বনিম্ন।
ব্রাজিলের কুরিতিবাভিত্তিক মেরেক্সের কৃষি কৌশলবিদ এদুয়ার্দো ভ্যানিন এবং বেইজিংয়ের এগ্রাডার কনসাল্টিংয়ের প্রতিষ্ঠাতা জনি শিয়াংও জানিয়েছেন, চীন ইতোমধ্যে দক্ষিণ আমেরিকা থেকে পর্যাপ্ত সয়াবিন সংগ্রহ করে রেখেছে। ফলে ফেব্রুয়ারির চীনা নববর্ষ পর্যন্ত তাদের চাহিদা মেটানোর মতো সয়াবিন হাতে রয়েছে।
বর্তমানে মার্কিন সয়াবিন রপ্তানি প্রত্যাশার তুলনায় অনেক পিছিয়ে রয়েছে। চীনের অতিরিক্ত চাহিদার বড় অংশ এখন দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলো—বিশেষ করে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা—দখল করে নিচ্ছে।
সুত্র: গ্লোবাল এগ্রিকালচার






