কৃষি খবর ডেস্ক: পাবনার চাটমোহর রেলওয়ে স্টেশনসংলগ্ন হাটের (অমৃতকুণ্ডা) ক্রেতা-বিক্রেতারাও কাকডাকা ভোর থেকেই নির্দিষ্ট জায়গায় জড়ো হতে শুরু করেন। ভোরবেলায় হাটের চৌহদ্দিতে পা রাখতেই কানে ভেসে আসে হাজারো মানুষের ব্যস্ত কোলাহল। বাতাসে তখন মিশে আছে তাজা শাকসবজি, সদ্য কাটা কাঁচা পাট আর মচমচে গরম জিলাপির মিষ্টি সুবাস। দূর থেকে ভেসে আসা ট্রেনের তীক্ষ্ণ হুইসেলের শব্দের সঙ্গে যেন রীতিমতো পাল্লা দিয়ে চলে ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাঁকডাক আর দর–কষাকষি। 

সপ্তাহে কেবল এক দিন, প্রতি রোববার ৫০০ ব্যবসায়ীর অস্থায়ী দোকান বসে মুখর আর প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে বৃহত্তর চলনবিল অঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্যকেন্দ্র—চাটমোহরের রেলবাজার হাট (অমৃতকুণ্ডা)। এই হাটে বার্ষিক ইজারা থেকে আয় প্রায় দেড় কোটি টাকা।   

১৯১৫-১৬ সালের দিকে ব্রিটিশ আমলে ঈশ্বরদী-সিরাজগঞ্জ ব্রডগেজ রেললাইন চালু হওয়ার পর স্টেশনকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে এই রেলবাজার। সময়ের পরিক্রমায় পাশের ঐতিহ্যবাহী অমৃতকুণ্ডা হাটের সঙ্গে এটি একীভূত হয়ে আজকের এই বিশাল বাজারে রূপ নিয়েছে বলে জানান স্থানীয় মানুষেরা।

বাজারের আরেক দিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ছড়াছড়ি। বস্তায় বস্তায় সাজিয়ে রাখা হয়েছে জিরা, এলাচি, লবঙ্গসহ নানা মসলাপাতি, ডাল ও শস্যদানা। তাজা কচুর লতি কেটে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করছেন কয়েকজন বিক্রেতা। অ্যালুমিনিয়ামের বড় ডেকচিতে চকচক করছে চলনবিলের তাজা পুঁটি আর কাচকি মাছসহ নানা প্রজাতির দেশীয় মাছ।’

অমৃতকুণ্ডা রেলবাজার হাটের একটি বিশাল অংশজুড়ে বসে কাঠের আসবাবের জমজমাট পসরা। প্রকাণ্ড ছায়াবৃক্ষের নিচে সারিবদ্ধভাবে সাজানো রয়েছে মজবুত কাঠের টেবিল, চেয়ার, আলমারি, চৌকি ও খাট। দৈনন্দিন গৃহস্থালির দরকারি আসবাব ছাড়াও এখানে অত্যন্ত সুলভ মূল্যে পাওয়া যায় পশুপাখির জন্য তৈরি নান্দনিক কাঠের ঘর।

চলনবিলের বুকে বর্ষার পানি নামতেই এই হাটে খলসুনি, ধুন্দি, বিত্তি আর খাদুনের বিশাল বাজার বসে। বাঁশ আর পাটের সুতলি দিয়ে এসব তৈরি করেন স্থানীয় কারিগরেরা। কারিগরদের লাভ খুবই প্রান্তিক হলেও, পৈতৃক পেশা হিসেবে এবং চলনবিলের সংস্কৃতির অংশ হিসেবে তাঁরা আজও এই কুটিরশিল্প বাঁচিয়ে রেখেছেন।

হাটের ভিড়ে নাকে এল তাজা জিলাপির ঘ্রাণ। ঐতিহ্যবাহী মুড়কি, নিমকি, চানাচুরের দোকানের পাশেই বসেছে বড় ভাতের হোটেল। সেখানে বড় ডেকচিতে ধোঁয়া ওঠা ভাত, দেশি মাছের ঝোল আর ডিমের তরকারি সাজানো। 

অন্যদিকে বড় ত্রিপল বা শামিয়ানার নিচে কাপড়ের বাজার। থান কাপড়, লুঙ্গি, শাড়ি থেকে শুরু করে টি-শার্ট—সবই মিলছে এখানে। মাটিতে পলিথিন বিছিয়ে চলছে স্যান্ডেল-জুতার বেচাকেনা। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে স্বস্তি দিতে বিক্রি হচ্ছে তালপাতার রঙিন হাতপাখাও।

সূত্র: প্রথম আলো