কৃষি খবর ডেস্ক: স্ক্রুওয়ার্ম পরজীবী দমনে কোটি কোটি বন্ধ্যা মাছি উৎপাদনের কারখানা থেকে ছড়ানো তীব্র দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে বিক্ষোভ করেছেন মেক্সিকোর দক্ষিণাঞ্চলীয় চিয়াপাস রাজ্যের বাসিন্দারা। পচা মাংসের মতো দুর্গন্ধে ঘরবাড়ি ও স্কুলের পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ায় কারখানাটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) মেতাপা দে দোমিঙ্গেস শহরের বাসিন্দারা জানান, কারখানার দুর্গন্ধ এখন আশপাশের এলাকা ছাড়িয়ে দূরের জনবসতি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও ছড়িয়ে পড়ছে। এতে বমি বমি ভাব হচ্ছে এবং স্কুলে পাঠদানও ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় ট্রাকচালক মার্সিডিজ বেসেরা দে লা ক্রুজ বলেন, ‘তারা এখানে কত টাকা বিনিয়োগ করেছে, তা নিয়ে আমাদের মাথাব্যথা নেই। আমরা চাই, এই কারখানা এখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হোক। শহরজুড়ে যে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে, তা আর সহ্য করা যাচ্ছে না।’
গত ২৭ জুন মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম ও যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিমন্ত্রী ব্রুক রলিন্স যৌথভাবে উৎপাদনকেন্দ্রটির উদ্বোধন করেন। ৫ কোটি ১০ লাখ ডলারের এই প্রকল্পে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ ২ কোটি ১০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করেছে। স্ক্রুওয়ার্মের লার্ভা গবাদিপশু ও অন্যান্য উষ্ণ রক্তের প্রাণীর জীবন্ত মাংসে ঢুকে ক্ষত সৃষ্টি করে। চিকিৎসা না হলে এতে প্রাণীর মৃত্যু হতে পারে।
চলমান প্রাদুর্ভাবে মেক্সিকোয় প্রায় ৪৮ হাজার এবং যুক্তরাষ্ট্রে ৫৩টি সংক্রমণের তথ্য পাওয়া গেছে। সীমান্ত পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়া স্ক্রুওয়ার্মের বিস্তার ঠেকানো এবং দুই দেশের মধ্যে গবাদিপশুর বাণিজ্য পুনরায় স্বাভাবিক করার বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবে কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হয়।
কারখানাটিতে মাছির লার্ভাকে ডিম, দুধ ও গুঁড়া হিমোগ্লোবিনের বিশেষ মিশ্রণ খাওয়ানো হয়। পরে মাছিগুলোকে বন্ধ্যা করে প্রকৃতিতে ছেড়ে দেওয়া হয়। এসব মাছি বন্য স্ত্রী মাছির সঙ্গে মিলিত হলেও বংশবিস্তার করতে পারে না। এর মাধ্যমে ধীরে ধীরে স্ক্রুওয়ার্মের বিস্তার নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, রোগের বিস্তার ঠেকাতে মাছি উৎপাদন গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর দুর্গন্ধে জনজীবন ব্যাহত হচ্ছে। শিশু ও বয়স্কদের কথা বিবেচনা করে কারখানাটি সরিয়ে নিতে সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে মেক্সিকোর কৃষি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সূত্র: রয়টার্স





