কৃষি খবর ডেস্ক: শুরুটা হয়েছিল ছোট্ট একটি কবুতরের বাচ্চাকে বাঁচিয়ে রাখার ইচ্ছা থেকে। সেই বাচ্চাকে খাবার দিয়ে বড় করা, এরপর ধীরে ধীরে কবুতর পালনের প্রতি ভালোবাসা তৈরি হওয়া। সময়ের সঙ্গে সেই শখই পরিণত হয়েছে নেশায়। পেরিয়ে গেছে প্রায় ৩৫ বছর। এখনো ঢাকার যাত্রাবাড়ীর ধলপুরের ছাদে প্রায় ১৫০টি কবুতর লালন-পালন করছেন কাজী কামাল উদ্দীন কামাল। 

শুধু কবুতর পালন নয়, দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত আছেন কবুতরের উড়াল বা রেসিং প্রতিযোগিতার সঙ্গেও।ছোটবেলায় কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে ভালো লাগত কামালের। নিজের কবুতর উড়লে আনন্দ পেতেন, অন্যের কবুতরের ওড়াউড়িও উপভোগ করতেন। সেই ভালো লাগা থেকেই ধীরে ধীরে কবুতর পালন শুরু। পরে অভিজ্ঞ কবুতরপ্রেমীদের সঙ্গে মিশে শেখেন প্রশিক্ষণ, পরিচর্যা ও প্রতিযোগিতার নানা কৌশল।

কামাল উদ্দীন কামাল জানান, প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ বছর আগে তার বোনের স্বামী একটি কবুতরের বাচ্চা নিয়ে এসেছিলেন। তখন সেটিকে জবাই না করে বড় করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। সেখান থেকেই কবুতর পালনের শুরু। পরে সেগুলো বিক্রি করে গিরিবাজ কবুতর সংগ্রহ করেন। সেই থেকে এখনো চলছে তার কবুতর পালন।

২০০৪ সালে প্রথমবার ২৫ কিলোমিটার দূরত্বের একটি রেসিং গেমে অংশ নেন তিনি। প্রথম প্রতিযোগিতায় তার একটি কবুতর হারিয়ে গেলেও বেশির ভাগ কবুতর ঘরে ফিরে আসে। সেই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই শুরু হয় তার প্রতিযোগিতার পথচলা।

কামাল জানান, এ পর্যন্ত ১১টি রেসিং গেমে অংশ নিয়ে সাতটিতে জয় পেয়েছেন। তিনটিতে পরাজিত হয়েছেন এবং একটিতে ড্র হয়েছে।

কামাল উদ্দীন কামাল বলেন, কবুতরকে শুধু খাবার দিলেই হয় না। প্রতিযোগিতার উপযোগী করে তুলতে নিয়মিত পরিচর্যা ও প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। খাবার, ওষুধ এবং অন্যান্য ব্যবস্থাপনার প্রতিটি বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিযোগিতায় সাধারণত দুই পক্ষের কবুতর নির্ধারিত দূরত্ব থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। কয়েক দিন ধরে চলা গেমে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোন পক্ষের কতটি কবুতর ঘরে ফিরেছে, তা হিসাব করা হয়। শেষ পর্যন্ত যে পক্ষের বেশি কবুতর ঘরে ফিরে আসে, সেই পক্ষকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।

এ ধরনের আয়োজনকে তিনি ‘দেহার বাজি’ বলে উল্লেখ করেন। তার বর্ণনায়, এক এলাকার লোকজন অন্য এলাকায় গিয়ে শত শত কবুতর একসঙ্গে ওড়াতেন। অন্য পক্ষও পরবর্তী সময়ে একইভাবে আয়োজন করত। কবুতর ওড়ানোর পাশাপাশি থাকত খাওয়াদাওয়া ও আনন্দ ভাগাভাগি। সময়ের সঙ্গে এমন আয়োজন কমে এসেছে। বর্তমানে গেম ও টুর্নামেন্টের প্রচলন বেড়েছে।

কামাল বলেন, সময় ও অর্থের সীমাবদ্ধতার কারণে অনেকেই দীর্ঘ দূরত্বের গেমে অংশ নিতে পারেন না। তুলনামূলক সহজ আয়োজন হওয়ায় টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বাড়ছে।

সূত্র: জাগো নিউজ