কৃষি খবর ডেস্ক: নিষেধাজ্ঞা শুরুর ঠিক আগে কক্সবাজার উপকূলে জেলেদের জালে ধরা পড়ছে বিপুল পরিমাণ ইলিশ। ফিশারিঘাটে একের পর এক ট্রলার ফিরছে ইলিশ নিয়ে। তবে মাছের সরবরাহ বাড়লেও বাজারে কমেনি দাম।
কক্সবাজারের নুনিয়াছটা ফিশারিঘাটে আসা ‘এফবি সোহেল’ নামের একটি ট্রলারে ধরা পড়ে ২ হাজার ৪০০টি ইলিশ। এসব ইলিশের জন্য মাঝি আবদুল মুনাফ ৫০ লাখ টাকা দাম চাইলেও দর-কষাকষির পর তিন ব্যবসায়ী মিলে মাছগুলো কিনে নেন ৪৪ লাখ টাকায়। প্রতি কেজিতে দাম পড়ে প্রায় ২ হাজার টাকা।
ট্রলারের মাঝি জানান, উপকূল থেকে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরে পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে জাল ফেললে ইলিশ ধরা পড়ছে। ১২ জন জেলে তিন দিন আগে সাগরে নামেন এবং রোববার রাতে জালে বড় ইলিশের ঝাঁক ধরা পড়ে।
খুরুশকুলের আরেকটি ট্রলারে ধরা পড়ে প্রায় ১ হাজার ১০০টি ইলিশ। সেগুলো বিক্রি করে জেলেরা পেয়েছেন ১৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
ফিশারিঘাটে বর্তমানে এক কেজির বেশি ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা, ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রামের ইলিশ ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা এবং ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রামের ইলিশ ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকায় পাইকারি বিক্রি হচ্ছে।
তবে সরবরাহ বাড়লেও ইলিশের দাম কমছে না। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, দেশের অন্যান্য এলাকায় তুলনামূলকভাবে কম ইলিশ ধরা পড়ায় চাহিদা বেশি থাকছে। কক্সবাজার থেকে আসা ইলিশের বড় অংশই ঢাকার বাজারে যাচ্ছে।
ফিশারিঘাটের ব্যবসায়ীরা বরফ দিয়ে কার্টনে ইলিশ সংরক্ষণ করে ট্রাকে করে ঢাকায় পাঠাচ্ছেন। কক্সবাজার সামুদ্রিক মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি জয়নাল আবেদীনের তথ্য অনুযায়ী, উপকূল থেকে আহরিত ইলিশের প্রায় ৯০ শতাংশই ঢাকায় সরবরাহ করা হয়।
এদিকে জেলেদের জন্য সামনে বড় বাধা হয়ে আসছে নিষেধাজ্ঞা। মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ৮ অক্টোবর থেকে ইলিশ আহরণে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু হওয়ার কথা। ফলে সাগরে ইলিশের ঝাঁক দেখা দিলেও অল্প সময়ের মধ্যেই মাছ ধরার সুযোগ বন্ধ হয়ে যাবে।
জেলেরা বলছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে গত দুই মাস তারা নিয়মিত সাগরে যেতে পারেননি। পাঁচ থেকে সাত দিনের একটি ট্রিপে একটি ট্রলারের খরচ হয় প্রায় ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা। কিন্তু অনেক সময় মাছ বিক্রি করে ২ থেকে ৩ লাখ টাকাও ওঠে না। এতে লোকসানে পড়ছেন ট্রলার মালিক ও জেলেরা।





